কেশিয়াড়ির সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিহারে যাঁদের ভোট কেটেছে, তাঁদের বলা হচ্ছে রেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে। আমি বলি, আমি থাকতে এসব করতে দেব না।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 April 2026 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার এসআইআর প্রসঙ্গে ফের একবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কেশিয়াড়ির সভা থেকে সরাসরি আক্রমণ ষানিয়েছেন বিজেপিকে (BJP)। বিহারের উদাহরণ তুলে তাঁর অভিযোগ এসআইআর করে তালিকা থেকে নাম কাটার পরে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন (West Bengal Assembly Election 2026)।
কেশিয়াড়ির সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিহারে যাঁদের ভোট কেটেছে, তাঁদের বলা হচ্ছে রেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে। আমি বলি, আমি থাকতে এসব করতে দেব না।"
মমতার নিশানায় বিজেপির 'প্রতিহিংসার রাজনীতি'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছেন। বিহারের এই পরিস্থিতিকে তিনি 'প্রতিহিংসার রাজনীতি' হিসেবেই দেখছেন।
পাশপাশি, বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ-মাংস খেতে দেওয়া হয়না। শনিবার ঝাড়গ্রামের সভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘‘আমরা তো বলি না, ছাতু খাবে না। কে কী খাবেন, কে কী পরবেন, তার উপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই। বাংলায় তা হতে দেব না।’’
শুক্রবার এক জনসভা থেকে মানুষকে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, আর নির্বাচনের পর আর একটা ছোবল দেয়। যদি ছোবল খেতে না হয়, তৃণমূলকে ভোট দিন।" ঝড়গ্রামের সভা থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কথা তুলে ধরেন মুতা। তাঁর দাবি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য সব টাকা রাজ্যকে দিতে হচ্ছে, কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না।
যদিও, শুক্রবার ডেবরায় নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য দায়ী একমাত্র তৃণমূলের অপশাসন। এমনকী রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র এক বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “নরেন্দ্র মোদীজি এই প্রকল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন। ৬০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে আক্ষরিক অর্থে জঞ্জালে পরিণত করেছে।”
প্রসঙ্গত, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লক - ঘাটাল, দাসপুর ১ ও ২, চন্দ্রকোনা ১ ও ২, কেশপুর ও ডেবরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক - পাঁশকুড়া ১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক, পাশাপাশি ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভার মানুষ উপকৃত হবেন। মোট প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বন্যা ও জলযন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করে।