
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল থেকে শুরু হয়েছে রাজ্যের চিকিৎসক সম্মেলন (Doctors' Convention)। এই উদ্দেশে ৬৭৫ জন কর্মরত চিকিৎসককে উপস্থিত থাকার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘চিকিৎসার আরেক নাম সেবা’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তৃতা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সদ্যপ্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের (Pratul Mukherjee) কথাও তুললেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার পরে গোটা দফতরের দায়িত্ব নিয়েছেন, রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। একথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'প্রতুলদা কদিন আগেই অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসকরা সাধ্যমতো তাঁকে সারানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার পরেও দু'দিন কোনও সাড়া ছিল না প্রতুলদার, কারও সঙ্গে কথা বলেননি। আমি আইসিইউ, আইটিইউ-তে এমনিতে কাউকে দেখতে যাই না, ভাল লাগে না। কিন্তু প্রতুলবাবুর কথা জানার পরে মনে হল, একবার গিয়ে দেখি।'
মমতা আরও বলেন, 'আমার সঙ্গে সুপার মণিময় ছিলেন, সাংবাদিক বিশ্ব ছিলেন। আমি গিয়ে প্রতুলদাকে ডাকলাম, প্রতুলদা, আমি মমতা। উনি চোখ খুললেন, জলে ভরা। অনেক সময় সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট এভাবেই ফিরিয়ে আনে। আমি প্রতুলদার আঙুল টিপে দিচ্ছিলাম, পাল্সটা বদলে গেল, ৯৫ থেকে ৯৩। ডাক্তাররা বললেন, উনি যে রেসপন্ড করলেন, তাতে ওঁর স্ট্রেস হচ্ছে।'
এর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি প্রতুলদাকে বললাম, আপনাকে গাইতে হবে, আপনি চলে গেলে বাংলায় গান গাই-টা কে গাইবে? উনি দুটো হাত তুলে বললেন... হয়তো আমায় আশীর্বাদ করলেন, বা হয়তো বললেন, আর পারবেন না গাইতে। আমিও বুঝলাম, উনি আর পারবেন না, আর কোনও উপায় নেই। উনি তো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। আগেও চিকিৎসা হয়েছে, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। এবার আর হল না।'
এখানেই শেষ নয়, এর পরেও খানিক আবেগপ্রবণ হয়ে মমতা বলেন, 'মানুষ মারা গেলেও, তাঁর মধ্যে একটা বোধ থাকে। মরণের পরে বইয়ে আছে সে কথা, আমি সেই থেকেই জেনেছি। একজন মানুষ মারা যাওয়ার পরে, বাড়ির লোকেরা কাঁদলেও তিনি বুঝতে পারেন। তবে এগুলি সবই রিসার্চের ব্যাপার। আমি মানবিকতার কথা বলছি।'