
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 April 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ৬ তারিখ রামনবমী (Ramnavami)। কলকাতা তথা রাজ্যে একাধিক মিছিল হবে ওইদিন। বিজেপি (BJP) ছাড়াও অনেক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মিছিলের ডাক দিয়েছে। আর মিছিল যে অস্ত্র নিয়েই হবে, তাও মোটামুটি পরিষ্কার। রাজ্য পুলিশের তরফে অবশ্য আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অস্ত্র-মিছিল করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করলেন তাতে ধোঁয়াশা বেড়েছে। তবে কি রামনবমীর অস্ত্র-মিছিলে অনুমতি দেবে সরকার?
ইদ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। মমতা চান, রামনবমী, অন্নপূর্ণা পুজো সহ বাকি যা উৎসব রয়েছে তা শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হোক। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর দলের অনেকেও রামনবমীর মিছিলে থাকেন, তাঁর কোনও কিছুতেই কোনও আপত্তি নেই। তবে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, একটা নতুন ধর্ম এনেছে ওরা, যা দিয়ে মানুষে-মানুষে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। বিজেপিকে 'জুমলা পার্টি' বলে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, এদেরকে তিনি মানবেন না, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণদেবকে মানবেন।
বিজেপিকে খোঁচা দিয়েই রামনবমীর অস্ত্র-মিছিল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ''যারা মিছিলের নাম করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা করে তাদের বলব, পঞ্জাবিরাও কৃপাণ নেয়। আপনারাও সিস্টেম অনুযায়ী নিশ্চয়ই করতে পারবেন। তবে পুরোটাই পুলিশের বিধিনিষেধ মেনে। অন্য এলাকায় গিয়ে হামলা করা আপনার কাজ নয়।'' মমতার সংযোজন, ''জুমলা পার্টিকে বলব, সত্যিই যদি ধর্মকে ভালোবাসেন বাসন্তী পুজো করুন, নবরাত্রি করুন, অন্নপূর্ণা পুজো করুন। ইতিহাসটা জেনে রাখুন।''
বিজেপি যে ধর্মের কথা বলে তা স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ কারও নয়, দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামনবমী প্রসঙ্গে তাই বিজেপিকে কার্যত সতর্কও করেছেন তিনি। মমতা বলেন, নতুন এক ধর্মকে আমদানি করে ধর্মীয় বিভাজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। রামনবমীর দিন যাতে কেউ দাঙ্গা করার চেষ্টা না করেন। লক্ষ্য থাকা উচিত শান্তিপূর্ণ মিছিলের। বাংলার মানুষ আর যাই চান, কখনও দাঙ্গার জন্য শান্তি নষ্ট হোক এমন চান না, এমনই বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। প্রসঙ্গত, নবান্নে যে সময়ে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করছেন মমতা, সেই সময়ই ওয়াকফ বিল ইস্যুতে সংসদে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদরা।