
শেষ আপডেট: 1 November 2023 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে তল্লাশিতে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। তারপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘গরিবের চাল চুরির’ অভিযোগে সরব হয়েছে বাম থেকে বিজেপি সহ সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে পাল্টা তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
টেনে এনেছেন বাম আমলের ‘রেশন কেলেঙ্কারি’র প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম ১কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল। কোথায় যেত ভুয়ো রেশনের ওই টাকাটা? এই কাজটা করতে আমাদের সাত আট বছর লেগেছে। ১ কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করেছি। অনেক দালাল রেশনের মাল বাইরে বিক্রি করে দিত। তাদের বিরুদ্ধে আমরাই ব্যবস্থা নিয়েছি।”
আগে রেশনে দেওয়া চাল খাওয়ার অযোগ্য ছিল বলেও অভিযোগ ছিল। সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একসময় তো ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া ভাঙা চাল দিত। তবু আমরা বাধ্য হতাম কিনতে। একদিন হঠাৎ করে ওরা সেটাও দেওয়া বন্ধ করে দিল। তখন আমরা ঠিক করলাম, ভাঙা চাল খাওয়ার চেয়ে চাষির চাল খাব। ২৬ টাকায় চাষিদের চালটা কিনতে হচ্ছে আমাদের। কৃষকরাও দাম পাচ্ছে।”
রাজ্যে বেশ কিছু রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে যে বেনিয়ম রয়েছে, তা অজানা নয় স্বয়ং রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানেরও। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তা বাতিল করা সম্ভব হয়নি বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “অনেক রেশন দোকান আমরা বাতিল করে দিতে চেয়েছিলাম। সেগুলো বেকার ছেলে বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালতের কারণে (মামলা মোকদ্দমার জেরে) সেগুলো বাতিল করা যায়নি। বরং কোর্টে লড়তে গিয়ে আমাদের ২-৩ বছর সময় গেছে। তা সত্ত্বেও কোভিডে কেউ খেতে পাননি এমন একটা দেখাতে পারবেন না। সবাইকে আমরা রেশনের চাল দিয়েছি।”
রেশনে দুর্নীতি ঠেকাতে তৃণমূলের আমলেই ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু করা হয়েছে। রাজ্যের রেশন ব্যবস্থার এই উদ্যোগকে সম্প্রতি কেন্দ্রও স্বীকৃতি দিয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সরকার যে সর্বতোভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সেটা বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রী সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাম আমলে কত ধরনের ঘটনা ঘটেছে। চিট ফান্ডও বাম আমলের তৈরি। সারদার কর্তাকে আমরাই কাশ্মীরের দুর্গম জায়গা থেকে গ্রেফতার করে এনেছিলাম।”