বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও যায় ইডির একটি দল।
.jpeg.webp)
গঙ্গাসাগরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 8 January 2026 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেও আই প্যাকের অফিসে ইডির হানা (I PAC ED Raid) নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রকে একযোগে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অভিযোগ, 'ভোটের আগে সব চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে।' 'বাড়িতে চুরি করতে এলে আমি আটকাব না?' একথা বলে কেন্দ্রকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে।'
বৃহস্পতিবার সাত সকালে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে (I PAC Kolkata office) হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়িতেও যায় ইডির একটি দল। বেলা গড়াতেই সিপির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় প্রতীক জৈনের (Prateek Jain I PAC) বাড়িতে। কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করেছিলেন, 'ভোটের (West Bengal Election) আগে তৃণমূলের সব তথ্য হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান।' এদিন গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেও তাঁর গলায় শোনা গেল একই সুর।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, "দলের সব ডেটা চুরি করে, আমার নামে মিথ্যে কেস বানিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে।" তাঁর কথায়, "তুমি যদি আমার বাড়িতে চুরি করতে আসো, তাহলে আমি আটকানোর চেষ্টা করব না!"
তিনি বলেন, "চুরি করে সব নিয়ে চলে গেছে। এসআইআর-এর লিস্ট (SIR), অসহায় মানুষদের চিঠি ছিল, সব নিয়ে পালিয়েছে।' কেন্দ্রকে তোপ দেগে বলেন, "ভোটের আগে মনে পড়ে ভোটবন্দি, নোট বন্দি। সারাক্ষণ শুধু লুট করছে আর মিথ্যে বলছে।" যোগ করেন, "নোটবন্দি করে মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, আধার কার্ড, প্যান কার্ড সব করানো হয়েছে। অথচ এখন বলছে আধার কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।"
নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন (Amartya Sen) থেকে শুরু করে জয় গোস্বামী, অভিনেতা তথা তিনবারের তৃণমূলের সাংসদ দেবকে এসআইআর-এ শুনানির নোটিস নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ফের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) 'ভ্যানিশ কুমার' বলে কটাক্ষ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, 'এটা গণতন্ত্র নাকি ষড়যন্ত্র?'
আগামিকাল (৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যদি কারও মৃত্যু হয়। তাহলে প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার ইন্সুরেন্সের সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়াও মেলায় পুণ্যার্থীদের হাতে পড়ার একটি করে ব্যান্ড দেওয়া হবে, যাতে কেউ নিখোঁজ হয়ে যায়, তাহলে তাঁদের খুঁজে পেতেও সুবিধা হবে।
২০২৩ সালে সাগরের মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে। তার পরেই শুরু হয় টেন্ডারের প্রক্রিয়া। নানা বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে গত ৫ তারিখ শিলান্যাস হয় মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের গঙ্গাসাগর সেতু।
মুড়িগঙ্গা নদীর উপর তৈরি হবে এই গঙ্গাসাগর সেতু (Gangasagar Bridge)। দায়িত্বে থাকছে নির্মাণ সংস্থা এল অ্যান্ড টি। সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগকারী এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪ কিলোমিটার, অ্যাপ্রোচ রোড মিলিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার। চার লেনের এই সেতু এক দিকে যুক্ত হবে কাকদ্বীপের লট ৮-এর সঙ্গে, অন্য দিকে কচুবেড়িয়ার সঙ্গে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এক হাজার ৭০০ কোটি টাকায় ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই গঙ্গাসাগর সেতু (Gangasagar Bridge) তৈরি হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, "কেন্দ্রকে ১০ বছর ধরে বলছি এক পয়সাও দেয়নি। রাজ্য সম্পূর্ণ টাকা দেবে।"