
শেষ আপডেট: 18 December 2024 22:40
বাংলায় প্রবাদ রয়েছে, যত কথা তত দোষ! একটা ভুল ঢাকতে গিয়ে আর একটা ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে আপাতত সাত-দশ দিন কোনও সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে এমন কোনও অনুষ্ঠানে আপাতত যেতে বারণ করেছেন, যেখানে সংবাদমাধ্যমকে তাঁকে তাঁর মৌলবাদী মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।
তাই এ ধরনের কোনও অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না পুরমন্ত্রী ববি হাকিম। বড়দিনের আগে পরে এই সময়ে কলকাতায় অনেক মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। অধিকাংশ উৎসব আয়োজনের নেপথ্যে থাকেন শাসক দলের নেতা মন্ত্রীরা। কলকাতা বা সংলগ্ন শহর ও শহরতলিতে এসব অনুষ্ঠান উদ্বোধনের জন্য আকছার ফিরহাদ হাকিমকে আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু এবার তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই এই মেলা বা উৎসবের উদ্বোধনে যাচ্ছেন না পুরমন্ত্রী। হাওড়া পুরসভা ২৩ ডিসেম্বর থেকে কার্নিভালের আয়োজন করেছে। সূত্রের খবর, সেজন্য হাওড়ার প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী পুরমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন। তাঁকেও ফিরহাদ হাকিম অপারগতার কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
এহেন পরিস্থিতিতে কলকাতার মহা নাগরিকের সঙ্গে বহুবার কথা বলার চেষ্টা করেছে দ্য ওয়াল। তবে ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গত শনিবার সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু প্রশ্নে যে সব কথা তিনি বলেছেন, তা নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করবেন না। সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়াও দেবেন না।
সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে মুখ না খুললেও এ ব্যাপারে দলের মধ্যে ববি হাকিম এক প্রকার কৈফিয়ত দিয়েছেন বলেই খবর। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ববি দলকে জানিয়েছেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগুরু হয়ে ওঠার কথা সরল গণিতের অর্থে বোঝাতে চাননি। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, সংখ্যালঘু মুসলমানদের আর্থ সামাজিক অনগ্রসরতার অন্যতম কারণ হল শিক্ষা। সে কারণেই সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও বৈষম্য বা ফারাক তৈরি হচ্ছে। এই অন্ধকার তাই শিক্ষাই দূর করতে পারে। সংখ্যালঘুদের উচিত নিজেদের ‘কাবিল’ করে তোলা। এ জন্য মেহনত করা। আল্লাহর রহমত আর সংখ্যালঘুদের মেহনত থাকলে তাঁরাও সমাজে অগ্রসর হতে পারবেন।
বুধবার আবার ববি হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম বলেছেন, বাবা উর্দু বলতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছেন। তবে ববির মেয়ের কথাটি অনেকের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতই মনে হয়েছে। কারণ, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে ফিরহাদ হাকিম যে কথা বলেছিলেন, তা উর্দুতে নয়। সে কথার বক্তব্য ছিল, স্পষ্ট ও সরাসরি।
কলকাতার মহানাগরিক ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, “বাংলায় আমরা ৩৩ শতাংশ। কিন্তু গোটা ভারতে মাত্র ১৭ শতাংশ। কিন্তু আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করি না। এক দিন আমরাই সংখ্যাগুরুর চেয়েও সংখ্যাগুরু হব।”
কিন্তু এ কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যারপরনাই চটেছেন তা তৃণমূলের বিবৃতিতেই স্পষ্ট কারণ। সেখানে শুধু মেয়রের মন্তব্যের নিন্দা করা হয়েছে তা নয়। সমাজের সম্প্রীতি নষ্টা করার চেষ্টা হলে কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম দুটি দফতরের মন্ত্রী, কলকাতার মেয়র, কেএমডিএ-র চেয়ারম্যান। তাঁর উদ্দেশে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা মানে ব্যাপারটা মোটেও হাল্কা নয়। অনেকের মতে, দিদি যে কতটা রুষ্ট এতেই তার মাত্রা বোঝা যাচ্ছে। তাই আপাতত মুখ খোলা বারণ ববির।