অসম, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লির নাম উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে, এমনকি খুনের ঘটনাও সামনে আসছে। কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 January 2026 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের (Siliguri Mahakal Mandir) শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে মঞ্চ করে একযোগে রাজনৈতিক, মানবিক ও সামাজিক বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে শুক্রবার সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ধর্মের প্রকৃত অর্থ ও মানবিকতার গুরুত্ব নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
বাংলায় কথা বললেই নিগ্রহ?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলায় (Bengali Language) কথা বলার ‘অপরাধে’ দেশের একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো কেন এমন করছে? আমরা তো কাউকে আলাদা করি না। মানবিকতা সবার জন্য, একতাই আমাদের শক্তি।”
অসম, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লির নাম উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, এই রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে, এমনকি খুনের ঘটনাও সামনে আসছে। কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ধর্ম নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান
ধর্ম ও মানবিকতার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “পিটনা কোই ধর্ম নহি হোতা। জিন্দেগি দেনা ধর্ম হোতা হ্যায়।” তাঁর মতে, জীবনের প্রকৃত ধর্ম হল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যতদিন বেঁচে থাকা যায় ততদিন ভালো কাজ করে যাওয়া।
বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “হাতের পাঁচটা আঙুল এক নয়, কিন্তু সব আঙুল একসঙ্গে হলেই মুঠো হয়। একটা ধর্ম বা একটা রং থাকলেই সমাজ চলে না।” বাংলার বহুত্ববাদই রাজ্যের আসল শক্তি - এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর ইস্যুতে আক্রমণ
এদিনই এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে আসার আগেই বেলডাঙার (Beldanga Incident) এক পরিযায়ী শ্রমিককে ভিনরাজ্যে পিটিয়ে খুন করার ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, বিহারেও সম্প্রতি একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অভিযোগ, “ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিদিন আমাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করছে। একদিকে নাম কাটছে, অন্যদিকে মারধর করে খুন করছে - এর থেকে ন্যক্কারজনক আর কী হতে পারে?”
মহাকাল মহাতীর্থের পরিকল্পনা
শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় প্রায় ৫৪ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠতে চলেছে মহাকাল মন্দির। মন্দিরের পাশাপাশি একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও তৈরি হবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি চিহ্নিতকরণ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির ও নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর, উত্তরবঙ্গেও বড়সড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির সেই পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মানবিকতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে একযোগে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী - যা উত্তরবঙ্গ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে।