
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সী
শেষ আপডেট: 22 June 2024 12:10
মাঝে কিছুদিন সংগঠনের বিষয়আশয় মোটামুটিভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই ছেড়ে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের পর অভিষেক এখন চিকিৎসার কারণে সাংগঠনিক ব্যাপার থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন। এর মধ্যে শক্ত হাতে ফের সংগঠনের রাশ ধরলেন মমতা। তাঁর মোদ্দা কথা একটাই, কোনও বেয়াদপি বরদাস্ত করা হবে না।
লোকসভা ভোটের পর খাস কলকাতায় শাসকদলের একাধিক কাউন্সিলরের পরস্পর বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কোথাও কোথাও বোমাবাজি পর্যন্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, এ সব অঙ্কুরেই বিনাশ করতে গত পরশু রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে ডেকে পাঠান তৃণমূলনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ সব আর তিনি মেনে নেবেন না। এক্ষুণি শোকজ করতে হবে।
তৃণমূলের জন্ম মুহূর্ত থেকে সুব্রত বক্সী দলের রাজ্য সভাপতি। মমতার আকার ইঙ্গিত মনোভাব সব বিলক্ষণ জানেন বক্সীবাবু। শুক্রবারই তিনি দুই কাউন্সিলরের উদ্দেশে শোকজের চিঠি ইস্যু করেছেন। বক্সী নিজে তাঁদের ডেকে তা হাতে তুলে দেন। বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা দক্ষিণ শহরতলির অন্যতম নেতা অরূপ বিশ্বাসকে ওই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে খবর। কারণ, যে দুই কাউন্সিলরের মধ্যে বিবাদ তাঁরা অরূপের এলাকার নেতা।
এঁদের মধ্যে একজন হলেন ১১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বরাজ মণ্ডল। তিন দিন আগে স্বরাজ মণ্ডলকে মেরে কান ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে।
গত মঙ্গলবার পাটুলি এলাকার ওই ওয়ার্ডে পার্টি অফিসে বসতে যাওয়া নিয়ে ঝগড়ার শুরু। স্বরাজ সেখানে বসতে গেলে দলের কিছু কর্মী আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, ওই পার্টি অফিসের চেয়ারে স্বরাজকে বসতে দেওয়া হবে না। এ নিয়ে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তার পর তুমুল হাতাহাতি। ঘুষি মেরে স্বরাজের কান ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। স্বরাজের লোকজনের অভিযোগ এর নেপথ্যে রয়েছেন ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারকেশ্বর চক্রবর্তী।
ওই পার্টি অফিসে সপ্তাহে অন্তত একদিন বসেন স্থানীয় বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার। আর বাকি দিন কাউন্সিলর। স্বরাজের অভিযোগ ভোটের আগেও একবার তাঁকে মারধর করেছিল তারকেশ্বরের লোকজন। তখন অরূপ বিশ্বাস সামলে দিয়েছিলেন। এখন ফের উৎপাত শুরু হয়েছে।
সূত্রের মতে, দুই কাউন্সিরলকে শোকজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বস্তুত সবাইকে হুঁশিয়ার করতে চেয়েছেন। কারণ, কলকাতায় এখন বহু পাড়ায় তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া চলছে। আবার লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে, পুর এলাকায় প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা বেশ তাগড়া। বহু ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে অবাঙালির সংখ্যা বেশি, সেখানে তৃণমূল পিছিয়ে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতেই এবার কড়া অবস্থান নিয়েছেন মমতা। দৃষ্টান্তমূলক ভাবে দু-একজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।