এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “জল সরবরাহ বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, এমনকি জলের ট্যাঙ্কার আনার চেষ্টাও রুখে দিয়েছে পুলিশ ও আরপিএফ। এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। বাংলা আর চুপ থাকবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা একজোট।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 July 2025 22:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানী দিল্লির বুকে ফের হেনস্থার শিকার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকেরা (Bengal Workers)। বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনিতে (Jai Hind Colony) যা ঘটেছে, তা এককথায় ‘অসহনীয়’। এমনই প্রতিক্রিয়া বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে কার্যত বাঙালিদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা জানিয়েছেন, “বিজেপি শাসিত দিল্লিতে পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের দুর্বিষহ অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
নয়াদিল্লির বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনি থেকে উঠে আসা একের পর এক ভয়ঙ্কর হেনস্তার ঘটনার খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিচলিত। এই বসতি মূলত সেই বাংলাভাষী মানুষেরা তৈরি করেছেন, যাঁরা দিল্লিকে গঠন করার অসংগঠিত শ্রমশক্তির গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ।
শোনা যাচ্ছে, বিজেপি পরিচালিত সরকারের…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) July 10, 2025
এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “জল সরবরাহ বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, এমনকি জলের ট্যাঙ্কার আনার চেষ্টাও রুখে দিয়েছে পুলিশ ও আরপিএফ। এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। বাংলা আর চুপ থাকবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা একজোট।"
এই ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। শাসক দল তৃণমূলের নেতৃত্ব এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট তৎপর। পরিযায়ী শ্রমিকদের রক্ষা করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার গঠিত পরিযায়ী সহায়তা কমিটি। রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম নিজে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন শ্রমিকদের সঙ্গে, ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে চাপ বাড়াচ্ছে তৃণমূল। বাংলার দুই সাংসদ— সামিরুল ইসলাম ও ইউসুফ পাঠান চিঠি লিখে দিল্লি-সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ী বাঙালিদের উপরে হামলা, হুমকি, লুটপাট, এমনকি পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের সমস্যার কথা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও সহযোগিতা মেলেনি বলেই দাবি।
এই প্রেক্ষিতে হস্তক্ষেপ করেছে কলকাতা হাইকোর্টও। হেনস্থার একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা— “অন্যায় যেখানেই হোক, বাংলা তার বিরুদ্ধে লড়বে।”