এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লি গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 January 2026 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন (West Bengal SIR) ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দিল্লি সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলীয় সূত্রের খবর, তিন দিনের এই সফর রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সফরকালে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লি গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, সংশোধনের নামে বহু ক্ষেত্রে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব। এক জনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে তাঁর আসন্ন দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল। সূত্রের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি, সেই পরিবারগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে দিল্লি যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে রাজ্যের পরিস্থিতিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরাই তাঁর কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে এই খবর, মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের কারণে পিছিয়ে যেতে পারে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ওই সময় সংসদের অধিবেশন চলবে। ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেট পেশ করবেন। তার আগেই সর্বদল বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। মমতার সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও, সংসদে বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোোপাধ্যায়েরও সেই সময় দিল্লি থাকার কথা। ফলে এসআইআর ইস্যুতে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
তৃণমূল সূত্রের দাবি, এই সফরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও আরও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। ‘শুনানির’ নামে পরিচিত যে প্রক্রিয়ায় বহু নাগরিক সমস্যার মুখে পড়ছেন, তারও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে স্পষ্ট করেছেন।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে ভোটের আবহে এবং এসআইআর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য দিল্লি সফর যে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, তা বলাই যায়।