বাঙালির শেষ পাতে চাটনি না হলে চলে, কিন্তু বাঙালির পাতে মাছ-মাংস থাকবে না, তা দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারে না। কিন্তু বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে সেই চেনা ‘আমিষ-তত্ত্ব’ নিয়েই এবার সরগরম বাংলার রাজনীতি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 March 2026 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির শেষ পাতে চাটনি না হলে চলে, কিন্তু বাঙালির পাতে মাছ-মাংস থাকবে না, তা দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারে না। কিন্তু বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে সেই চেনা ‘আমিষ-তত্ত্ব’ নিয়েই এবার সরগরম বাংলার রাজনীতি। সোমবার পাঁশকুরার নির্বাচনী সভা থেকে এই ইস্যুতেই বিজেপি-কে (BJP) আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, বিজেপি জয়ী হলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর সরাসরি কোপ পড়বে।
এদিন পাঁশকুরার জনসভা থেকে বিজেপি-কে ‘লুটেরার দল’ বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “করছে লুট, বলছে ঝুট। দেশটাকে বিজেপি যেভাবে চালাচ্ছে, দু’মাসের মধ্যে ওদের দিল্লি ছেড়ে পালাতে হবে।” কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও এসআইআর (SIR) ইস্যুতে সুর চড়ানোর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলার খাওয়া-পরা বন্ধ করার দল বিজেপি। কেউ যদি ওদের টাকা নিয়ে ভোট দেন, তবে ভবিষ্যতে আর মাছ-মাংস খেতে পারবেন না!”
তৃণমূলের (TMC) এই আক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে এনডিএ শাসিত বিহার সরকারের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকা। সেখানে জনস্বাস্থ্য ও ‘শিশুদের উগ্র মানসিকতা’ কমানোর দোহাই দিয়ে প্রকাশ্যে মাছ-মাংস বিক্রি এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে আমিষ পসরা সাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, এই ‘বিহার মডেল’ আসলে বাঙালির চিরকালীন খাদ্যাভ্যাস ও অস্মিতার ওপর বড়সড় আঘাত।
তৃণমূলের এই প্রচার রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি-ও। দিন কয়েক আগেই বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছিল সটান হাতে মাছ নিয়ে বাজারে প্রচার করতে। ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, “বাঙালি মাছ-মাংস সব খাবে, তৃণমূলের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।”
মমতা যখন সোমবার মাছ-মাংস নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করছেন, তার খানিকক্ষণ আগেই হলদিয়ায় ‘বিজয় সঙ্কল্প সভা’ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তৃণমূলের এই অভিযোগকে স্রেফ ‘ইস্যুহীন রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “মমতাদির কাছে আর কোনও কাজ নেই, তাই খাবার নিয়ে রাজনীতি করছেন। কালই আমি নন্দীগ্রামে ছিলাম, সেখানে নিজে মাছ ও ডিম খেয়েছি। বিজেপি নেতা বলে কি আমরা মাছ খাই না?” তাঁর দাবি, কাজ করার কিছু নেই বলেই তৃণমূল এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।