
শেষ আপডেট: 17 January 2024 18:46
বাংলায় শাসক দল ও সরকারের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীরা যে কৌশল নিয়ে এখন চলছেন তা খুবই স্পষ্ট। তৃণমূল ও রাজ্যের সরকারকে চোর প্রতিপন্ন করতে চাইছে বিজেপি। তাঁরা তাই স্লোগানও তুলছেন, তৃণমূল মানে চোর! এতে যে মুখ্যমন্ত্রী ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ তা নিয়ে সংশয় নেই।
বুধবার নবান্নে ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে সেই রাগের জ্বালামুখ খুলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পঞ্চায়েতে কে কোথায় চুরি করছে, তার জন্য আমাকে চোর শুনতে হবে? কেন?
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, যে চুরি করেছে, দায় তার। আমাকে সে জন্য কেন শুনতে হবে এসব কথা? আর বরদাস্ত করব না এই সব।
এটুকু বলেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারি বাড়াতে বলেন। সেই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, রাজীব (কুমার) তুমি একটু ব্যাপারটা দেখো।
বৈঠকে উপস্থিত এক আমলা এদিন বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে, রাজীবকে তাঁদের ব্যাপারটা দেখতে বলা হয়েছে, নাকি কারও বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগকে নিয়ে যাঁরা সরকারকে চোর বলছেন, তাঁদের দেখতে বলা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার যে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাপারটা ভাল ভাবে নিচ্ছেন না।
এর আগে মঙ্গলবারও নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বলেছিলেন, হাতের পাঁচটা আঙুল কখনও সমান হয় না। পাঁচটির মধ্যে একটি কাটা পড়তে পারে..। কিন্তু সবাইকে চোর বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এ কথা বলে বিজেপির মুণ্ডপাত করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ওদের দলে বড় বড় চোর, বড় বড় ডাকাত, বড় বড় ক্রিমিনাল রয়েছে।
শাসক দলের অনেকের মতে, গ্রামস্তরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের কোথাও কোথাও যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে তার জন্য দলেরই নিচুতলার কিছু নেতা দায়ী। তাঁদের অনেকেই পঞ্চায়েত সদস্য বা প্রধান বা জেলা পরিষদের সদস্য। যেমন শাহজাহান শেখ ছিলেন। এই শ্রেণির নেতাদের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে গ্রামের মানুষকেও বার্তা দিতে চাইছেন। তাঁদের বোঝাতে চাইছেন, এই চুরি তিনি বরদাস্ত করছেন না। সেই সঙ্গে বুথ স্তরে সমস্যার সমাধান প্রকল্পও শুরু করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে শাসক দলের সঙ্গে গ্রাম মফস্বলের মানুষের আস্থার সম্পর্ক অটুট থাকে।
গত লোকসভা ভোটের পর ‘দিদিকে বলো’ প্রকল্পের মাধ্যমে দলীয় স্তরে এই বিচ্ছিন্নতা দূর করার একটা চেষ্টা হয়েছিল। পরে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ‘দিদির দূত’ প্রকল্প শুরু করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেরকমই ‘সমস্যার সমাধান’ নামে একটি প্রকল্প ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। যা চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বুধবার সে ব্যাপারেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল নবান্নে। যেখানে দুর্নীতি দমনে রাজ্য পুলিশকেও সজাগ থাকতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।