
মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।
শেষ আপডেট: 22 August 2024 21:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনায় আন্দোলিত সমাজ। শুধু জুনিয়র চিকিৎসকরা নন, বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে পথে নেমেছেন সর্বস্তরের মানুষ। তাতে সামিল হয়েছেন মালদহ মেডিক্যালের পড়ুয়ারাও। বুধবার সন্ধেয় স্বাস্থ্য ভবনের এক নির্দেশিকার জেরে সেই ক্ষোভের আগুনে কার্যত ঘি ঢালার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদহ মেডিক্যালে।
ঘটনার সূত্রপাত, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবি মেনে বুধবার সন্ধেয় আরজি করের অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল, সুপার তথা উপাধ্যক্ষ বুলবুল মুখোপাধ্যায়, সহকারী সুপার সুচরিতা সরকার এবং চেস্ট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান অরুণাভ দত্ত চৌধুরীকে বদলির নির্দেশ জারি করে স্বাস্থ্য দফতর। অরুনাভবাবুকে শিক্ষক-চিকিৎসক হিসাবে বদলি করা হয়েছে মালদহ মেডিক্যালে।
বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে মালদহ মেডিক্যালের পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, 'ওনার বিরুদ্ধে এক ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনায় নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এই ধরনের অভিযোগ থাকা অধ্যাপক-চিকিৎসক এখানে এলে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আমরা কোনও অবস্থাতেই ওনাকে মেনে নেব না।'
পড়ুয়ারা সাফ জানিয়েছেন, 'জেলার মেডিক্য়াল কলেজ মানে তো ডাস্টবিন নয়, যে যাঁকে তাঁকে এখানে পাঠিয়ে দেবে আর আমরা মেনে নেব।'
ঘটনাচক্রে এদিন মালদহ মেডিক্যালে কাজে যোগ দেননি চেস্ট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান অরুণাভ দত্ত চৌধুরী। এ ব্যাপারে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে তিনি যেদিনই যোগ দিতে আসবেন, তাঁকে মেডিক্যালের গেট থেকে পত্রপাঠ ফেরৎ পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা।
প্রসঙ্গত, আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনার পর হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ন্যাশনাল মেডিক্যালের সুপার পদে পাঠিয়েছিল রাজ্য। যদিও পড়ুয়া বিক্ষোভের জেরে তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছিল রাজ্যকে। আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার পর সন্দীপ ঘোষকে ১৫ দিনের ছুটিতে পাঠায় রাজ্য।
অন্যদিকে আরজি করের অধ্যক্ষ সুহৃতা পালকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার তিনিও নতুন কর্মস্থলে কাজে যোগ দেননি।