১৩ বছর বয়সি শ্রীকান্তের মৃত্যুসংবাদ আসে গত ২ জুলাই রাতে। হস্টেল থেকে ফোন করে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ খবর দেওয়া হয় ছেলের বাবা প্রেমকুমার মণ্ডলকে। দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই বাড়ির উদ্দেশে তিনি রওনা দেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 July 2025 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের হস্টেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যমৃত্যু ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য (Malda Student Death)। পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা নয়, ছেলের মৃত্যুতে হস্টেলের এক শিক্ষকের নির্যাতনের ছাপ স্পষ্ট। এই অভিযোগে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত শ্রীকান্ত মণ্ডলের পরিবার। বিচার না পাওয়া অবধি শেষকৃত্যও করবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই ছ'দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বাড়িতেই রয়েছে মরদেহ। এরইমধ্যে প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে (Post Morterm Report) অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত চেয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হতে চলেছে মৃত পড়ুয়ার বাবা-মা।
১৩ বছর বয়সি শ্রীকান্তের মৃত্যুসংবাদ আসে গত ২ জুলাই রাতে। হস্টেল থেকে ফোন করে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ খবর দেওয়া হয় ছেলের বাবা প্রেমকুমার মণ্ডলকে। দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই তিনি রওনা দেন মালদহর হীরানন্দপুর পঞ্চায়েতের কেদারটোলা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে।
শ্রীকান্ত মণ্ডলের বাড়ি মালদহের মানিকচক (Manikchak) ব্লকের কেদারটোলা এলাকায়। বেসরকারি স্কুলের হস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিল। বুধবার রাতে হস্টেলের ঘর থেকেই শ্রীকান্তর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় (Students body resued from hostel)। ওই ঘরে আরও প্রায় ৪০ জন ছাত্র থাকলেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
পরিবারের দাবি, হস্টেলের (Hostel Student Death) এক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ছেলের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। 'আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না', কান্নাজড়ানো গলায় বলছেন প্রেমকুমারবাবু। তিনি আরও বলেন, 'ওর সঙ্গে কী হয়েছে, আমরা জানতে চাই। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত না-হওয়া পর্যন্ত আমরা দেহ সংরক্ষণ করে রাখব।'
৩ জুলাই মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয় প্রথম ময়নাতদন্ত। সেই রিপোর্ট হাতে এসেছে সোমবার। তবে সেই রিপোর্টে থাকা নানা অসঙ্গতি ও দেহে স্পষ্ট চিহ্ন ঘিরে সন্দেহ আরও গাঢ় হয়েছে পরিবারের। তাই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েই তাঁরা শ্রীকান্তর দেহ গত এক সপ্তাহ ধরে একটি ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে রেখেছে। এবার সেই দাবিকে আইনি রূপ দিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করতে চলেছে।
পরিবারের প্রশ্ন, যদি আত্মহত্যাই হয়ে থাকে, তবে শরীরে একাধিক চোটের চিহ্ন কীভাবে এল? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। মৃত পড়ুয়ার বাবার বক্তব্য, 'ছেলের মৃত্যুর পিছনে যদি কারও হাত থাকে, সে যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক, শাস্তি পেতেই হবে।' এই বিষয়ে জেলার এক প্রশাসনিক কর্তা জানিয়েছেন, 'ঘটনার তদন্ত চলছে। পরিবার যদি আদালতের শরণাপন্ন হয়, তা হলে আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'