শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত— এই দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কালিয়াচকের পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে কোনও তথ্যই পায়নি।

কালিয়াচকের সেই অশান্তির ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালিয়াচকে (Malda Kaliachak Incident) আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগে মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (আইন ও শৃঙ্খলা) শেখ আনসার আহমেদকে শোকজ করলেন জেলাশাসক (DM)। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ১ এপ্রিল কালিয়াচকে (NIA Kaliachak) বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় কর্তব্যরত থাকা সত্ত্বেও ওই আইএএস অফিসার কেন সঠিক সময়ে রিপোর্ট করেননি, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ এপ্রিল কালিয়াচক এলাকায় যখন উত্তেজনা ছড়ায়, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদকে। জেলাশাসকের দফতর থেকে ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁকে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে তাঁকে সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল।
শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত— এই দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কালিয়াচকের পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে কোনও তথ্যই পায়নি। অথচ তথ্যানুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ওই সময় ওই আইএএস অফিসার মহকুমা শাসক (SDO) এবং বিডিও-র (BDO) সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছিলেন। অর্থাৎ, মাঠের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা সত্ত্বেও জেলাশাসকের দফতরে কোনও ‘ইনপুট’ দেননি।
জেলাশাসকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর সময়ে ওই আধিকারিকের এই নীরবতা ‘গুরুতর গাফিলতি’ এবং ‘কর্তব্যচ্যুতি’র শামিল। একজন আইএএস অফিসারের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত এবং এটি ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (আচরণ) বিধি, ১৯৬৮’-র ৩(১) ধারা লঙ্ঘন করেছে।
শোকজ নোটিসে শেখ আনসার আহমেদকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে:
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না মিললে প্রশাসন যে কড়া আইনি পথে হাঁটবে, তা নোটিসেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।