
শেষ আপডেট: 3 September 2020 18:30
সেনা সূত্রে খবর, চিনের বাহিনীকে রুখতে ভারত তাদের নতুন নীতি নিয়েছে। সীমান্তে সেনার সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। কালা টপে টহল দিচ্ছে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (এসএফএফ)। অন্যদিকে, প্যাঙ্গং হ্রদ বরাবর চুসুল ও স্প্যানগুর সো এলাকায় টি-৯০ ভীষ্ম ও টি-৭২এম১ যুদ্ধট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে ভারতীয় বাহিনী। তাদের নিশানা চিনের ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের দিকে। টি-৯০ ‘ভীষ্ম’ ট্যাঙ্কের ২এ৪৬এম ১২৫ মিলিমিটার ট্যাঙ্ক-গান থেকে ৬০ সেকেন্ডে ৮টি সেল ছোড়া যায়। ৪৮ টন ওজনের এই ট্যাঙ্কে রয়েছে সেমি-অটোমেটিক লেজার বিম-রাইডিং গাইডেন্স। এর পাল্লা ১০০ মিটার থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর টার্গেট পয়েন্টে যদি শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টারও চলে আসে, তাহলে তাকেও নির্ভুল নিশানায় আঘাত করতে পারে টি-৯০ ‘ভীষ্ম’।
ভারতীয় সেনা সূত্র আরও জানাচ্ছে, তিব্বতের কাছে গারি-গুনসা ও হোটান বায়ুসেনা ঘাঁটিতে চিনের যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে দেখা যাচ্ছে। হোটান এয়ারবেস রয়েছে চিনের শিংজিয়াং প্রদেশে যা পূর্ব লাদাখের কাছাকাছি। এখান থেকে বোমারু বিমানও সীমান্তের কাছে মোতায়েন করেছে চিন। হোটান এয়ারবেস থেকে দেপসাং এলাকা, গালওয়ানের ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট, হটস্প্রিং, প্যাঙ্গং হ্রদ সংলগ্ন ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এলাকায় নজরদারি চালানো সহজ। চিন ও ভুটান সীমান্তের ডোকলামে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। অন্যদিকে, সিকিম-চিন সীমান্তে নাকু লা-তেও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি হচ্ছে। ডোকলামে মিসাইল সিস্টেম তৈরির পাশাপাশি হেলিপোর্টও তৈরি করছে চিনের বাহিনী।
ভারতের সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে আজই বলেছেন, চীনকে আটকাতে সবরকমভাবে প্রস্তুত ভারতের বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা রয়েছে ঠিকই, তবে ভারত তার নতুন সামরিক কৌশল নিয়েছে। বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস ভাদুরিয়া গতকালই গোটা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে উত্তর-পূর্ব এয়ার ফোর্স বেসে গিয়েছিলেন। জানা গেছে, আকাশসীমাকে সুরক্ষিত করতে ইতিমধ্যেই এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করেছে ভারত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চক্কর কাটছে ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট।