বিতর্কের সূত্রপাত কৃষ্ণনগরের এক সভা থেকে। সেখানে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, “সারা বছর তৃণমূল, ভোটের সময় সনাতনী— এটা কেমন অঙ্ক?”
.jpeg.webp)
মহুয়া মৈত্র।
শেষ আপডেট: 13 September 2025 00:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মতুয়া সমাজকে উদ্দেশ করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে (Matua controversy) নতুন করে ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। কল্যাণীর মতুয়া মহাসঙ্ঘ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরাও নালিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে। তবে এই বিতর্কে নিজেকে একচুলও সরাতে রাজি নন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানালেন, “মতুয়া নিয়ে আমি কিছু ভুল বলিনি। বিজেপিই অপব্যাখ্যা করছে।”
বিতর্কের সূত্রপাত কৃষ্ণনগরের এক সভা থেকে। সেখানে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, “সারা বছর তৃণমূল, ভোটের সময় সনাতনী— এটা কেমন অঙ্ক?” লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তফসিলি জাতি ও জনজাতির মহিলারা বেশি টাকা পান। তার পরও ভোটের সময়ে মতুয়া প্রধান বিভিন্ন বুথে অন্য দলকে সমর্থন করেন। এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বিতর্ক।
মতুয়া সংগঠনের দাবি, মহুয়ার মন্তব্যে তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। এরই মধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করে কল্যাণীর মতুয়া মহাসঙ্ঘ। অন্য দিকে, মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরাও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরব হয়েছেন।
তবে মহুয়া অনড়। তাঁর বক্তব্য, “বনগাঁ আমরা জিতিনি। কৃষ্ণনগর টাউনও জিতিনি। কিন্তু তাই বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন বন্ধ করেননি। বিজেপি বাংলায় জেতেনি, তাই টাকা বন্ধ করেছে। আমি সেটাই বলেছি।”
সাংসদের দাবি, ওই এলাকায় ১০০ ভোটের মধ্যে ৮৫ ভোট যায় বিজেপিতে। তিনি বলেন, “কাজের সময় মমতা, রাস্তার সময় মমতা। কাঠের মালা পরে সবাই ভাতা নিতে আসেন, তখন কী হয়? ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, আমার কিছু যায় আসে না।”
অভিযোগ-প্রতি অভিযোগে যখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম, তখন মহুয়ার অবস্থান পরিষ্কার— “আমাদের দল গণতান্ত্রিক। আমার বিরুদ্ধে কেউ চিঠি লিখতেই পারে। ঝগড়া হবে, আবার মিটবেও।”