
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 26 February 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের বিধায়ককে তাঁর এলাকায় গিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা নদিয়া জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া বুধবার পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে মনিককে 'চোর' ও 'ডাকাত' বলে আক্রমণ করেন। আর এর হাত ধরেই ফের প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
বুধবার বার্নিয়া অঞ্চলে এক কর্মিসভায় মহুয়া বলেন, 'যাদের জন্য দল কলঙ্কিত হয়েছে, সরকারের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর, চার্জশিট রয়েছে, তারা ভোটের আগে এলাকায় ঢুকে মিটিং করবে, আর আমরা চুপ করে থাকব? আমি সাধারণত এসব বলি না, কিন্তু আজ বাধ্য হয়ে বলছি। যারা দলকে কালিমালিপ্ত করেছেন, তাঁরা ডাকাত, রঘু ডাকাত। এরা শুধুই চোর নয়, পরিবারের সবাই চোর— স্ত্রী, ছেলে, পুরো বংশ চোর।'
মানিক ভট্টাচার্য, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আফশোস করে বলেন, 'এতদিন বিরোধীরা এসব বলছিল, এবার দলের মধ্যেই কেউ একজন সেই তালিকায় যোগ দিল।'
তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই প্রথম নয়। মহুয়া মৈত্র এবং কয়েকজন বিধায়কের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। কিছুদিন আগে কৃষ্ণনগর লোকসভা এলাকার ছয় বিধায়ক তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মহুয়ার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মানিক ভট্টাচার্য, উজ্জ্বল বিশ্বাস, কল্লোল খাঁ, রুকবানুর রহমান, বিমলেন্দু সিংহ রায় ও সদ্যপ্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহমেদ।
সম্প্রতি নাসিরউদ্দিন আহমেদের স্মরণসভা নিয়েও সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। বিধায়কদের উদ্যোগে আয়োজিত সেই সভায় আমন্ত্রণ পাননি মহুয়া। পরে তিনি আলাদাভাবে একটি সভার আয়োজন করেন যেখানে আবার বিধায়কদের কাউকে দেখা যায়নি।
বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি সংক্ষেপে শুধু বলেন, 'যিনি বলেছেন, ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়ও তাঁর।'