
শেষ আপডেট: 2 November 2023 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ছবিতে এক সময়ে মহম্মদ আজিজের গাওয়া একটি গান হিট করেছিল। সেই গানের কথা ছিল—‘লাল শাড়ি লাল টিপ শ্রীমতি যে যায়..’।
প্রশ্ন-ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে লোকসভার এথিক্স কমিটি ডেকে পাঠিয়েছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। কমিটির তলবে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদে পৌঁছেছেন মহুয়া। তাঁকে দেখে অনেকেরই হয়তো মহম্মদ আজিজের সেই গানটি মনে পড়ে যেতে পারে।
মহুয়া অবশ্য ঠিক লাল শাড়ি পরেননি। রানি কালার ঘেঁষা বলা যেতে পারে। কপালে সেই রঙের টিপ। হন্তদন্ত হয়ে হাঁটছেন। হাতে তিনটি ব্যাগ। একটা টোট ব্যাগ, একটা স্লিং ব্যাগ আর একটা স্যাশেল।
প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ড নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে তৃৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র পৌঁছলেন সংসদ ভবনে।#MahuaMoitra #mahuamoitrascandal #Parliament #TheWallBangla pic.twitter.com/RoWEoMCPtg
— The Wall (@TheWallTweets) November 2, 2023
মহুয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ করেছেন দু’জন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং মহুয়ার প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদরাই। নিশিকান্তর অভিযোগ দুবাইয়ের ব্যবসায়ীর থেকে ২ কোটি টাকা ও দামি উপহার নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন মহুয়া। ওই ব্যবসায়ীর স্বার্থ রাখতে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন করা হয়েছে। মহুয়া সংসদের ওয়েবসাইটের লগ ইন পাসওয়ার্ড ওই ব্যবসায়ীকে শেয়ার করেছিলেন। তিনি দুবাইতে বসে ৪৭ বার লগ ইন করেছেন লোকসভার ওয়েবসাইটে।
মহুয়া ও মুম্বইয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানি আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনা হল, দর্শন হীরানন্দানিও এখন কার্যত রাজসাক্ষী হয়ে গিয়েছেন। তিনি হলফনামা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে মহুয়ার আবদার ও বায়নাক্কা রাখতে তাঁকে দামি উপহার, বিদেশে বেড়ানোর খরচ দিতে হয়েছে। দর্শন এও স্বীকার করেছেন যে মহুয়ার হয়ে তিনি লোকসভার ওয়েবসাইটে প্রশ্ন পোস্ট করেছিলেন।
মহুয়ার পাল্টা দাবি দর্শনের থেকে কোনও টাকা তিনি নেননি। কেবল একটা স্কার্ফ ও লিপস্টিক-আই শ্যাডো উপহার নিয়েছিলেন মাত্র। সেই সঙ্গে মহুয়ার দাবি, সংসদে প্রশ্ন করে বিরাট কোনও গোপনীয় তথ্য পাওয়া যায় না। লগ ইন পাসওয়ার্ড শেয়ার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। তাঁর যে কোনও কর্মচারী বা অ্যাসিট্যান্ট তাঁর হয়ে প্রশ্ন করতেই পারেন।
তবে বিষয়টা এখন অন্য। তা হল, এথিক্স কমিটি ব্যাপারটা কীভাবে নেবে। মহুয়ার বক্তব্য যুক্তিগ্রাহ্য না হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করতেই পারে কমিটি। এখন দেখার এদিনের সওয়াল জবাব শেষে ব্যাপারটা কতদূর যায়।