দ্য ওয়াল ব্যুরো : নেত্রাবতী নদী থেকে ক্যাফে কফি ডে-র মালিক ভি জি সিদ্ধার্থের দেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে টুইট করলেন শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা। তিনি লিখেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধার্থকে চিনতাম না। তাঁর আর্থিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়েও আমার কোনও ধারণা নেই। কিন্তু আমি একটা কথা জানি, ব্যবসায় ব্যর্থ হলেও উদ্যোগপতিদের আত্মসম্মান নষ্ট হওয়া উচিত নয়। সেরকম হলে উদ্যোগপতির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
https://twitter.com/anandmahindra/status/1156236470136426496
৬০ বছর বয়সী ভি জি সিদ্ধার্থ সোমবার গাড়িতে বেঙ্গালুরু থেকে সকলেশপুর নামে এক জায়গায় গিয়েছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন বাসবরাজ পাতিল। তিনি তিন বছর ধরে সিদ্ধার্থের কাছে কাজ করছেন।
ফেরার পথে সিদ্ধার্থ ম্যাঙ্গালুরুর দিকে গাড়ি ঘোরাতে বলেন। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ গাড়ি নেত্রাবতী নদীর ওপরে উল্লাল ব্রিজে উঠলে তিনি নেমে যান। চালককে বলেন, ব্রিজের শেষ প্রান্তে গিয়ে অপেক্ষা করতে। এক ঘণ্টা বাদেও তিনি না ফেরায় চালক তাঁর মোবাইলে ফোন করেন। দেখা যায়, শিল্পপতির ফোন সুইচড অফ। এরপর বাসবরাজ শিল্পপতির ছেলেকে খবর দেন। পুলিশকেও ফোন করেন।
সিদ্ধার্থর সন্ধানে পুলিশ ডগ স্কোয়াড আনে। কুকুরগুলি ব্রিজের মাঝখানে এক জায়গায় থেমে যায়। স্থানীয় এক মৎস্যজীবী জানান, তিনি ব্রিজ থেকে একজনকে পড়ে যেতে দেখেছেন। মঙ্গলবার দিনভর নেত্রাবতী নদীতে খোঁজাখুজি চলে। বুধবার ভোড় ছ'টায় নদীর পাড়ে সিদ্ধার্থের দেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানায় জলে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
কিছুদিন আগে সিদ্ধার্থ সিসিডির ম্যানেজমেন্ট ও কর্মীদের উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন। তাতে বিষাদের সুর স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও আমি সিসিডিকে যথেষ্ট লাভজনক করে তুলতে পারিনি। আমার ওপর যাঁরা আস্থা রেখেছিলেন, তাঁরা হতাশ হয়েছেন। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কাউকে ঠকানো আমার উদ্দেশ্য ছিল না।
এই চিঠির কথা জানাজানি হতেই আনন্দ মাহিন্দ্রা টুইট করে শিল্পপতিদের সতর্ক করে দেন।