দ্য ওয়াল ব্যুরো: জটিল অস্ত্রোপচারের চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেলেছিলেন কলকাতার ডাক্তাররা। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই গোটা পূর্ব ভারতে প্রথম ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ইতিহাস তৈরি হয়েছিল কলকাতায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পর ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল পাটুলির বাসিন্দা দীপক হালদারকে। হাই-রিস্ক সার্জারি কতটা সফল হল তা দেখতেই টানা তিনদিন পর্যবেক্ষণে ছিলেন রোগী। কিন্তু এর পরেও বাঁচানো গেল না। শুক্রবার রাত ৯টা নাগাদ মৃত্যু হয় রোগীর।
মেডিকার ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ফুসফুস প্রতিস্থাপন এমনিতেও হাই-রিস্ক সার্জারি। প্রতিস্থাপিত অঙ্গ শরীরে কার্যকরী হবে কিনা সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মৃত্যু হয়েছে রোগীর। তাছাড়া রাইট ভেন্ট্রিকুলার ঠিক মতো কাজ করেনি। গতকাল রাতেই জীবনের লড়াই থেমে যায় দীপক হালদারের।
দীপক গত ১০৩ দিন ধরে ইকমো সাপোর্টে ছিলেন। ইকমো হল ‘একস্ট্রা-কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ পদ্ধতি। একে ‘একস্ট্রা-কর্পোরিয়াল লাইফ সাপোর্ট’ (ECLS) বলা হয়। হার্ট ও ফুসফুসের রোগে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। শ্বাসপ্রশ্বাসে যখন স্বাভাবিক ভাবে অক্সিজেন ঢুকতে পারে না শরীরে, এমন ভেন্টিলেটরের মতো যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কাজ হয় না, তখন কৃত্রিমভাবে এই পদ্ধতিতে শরীরে অক্সিজেন ঢোকানো হয়।
সুরাট থেকে ব্রেন ডেথ হওয়া রোগীর ফুসফুস নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। আগে থেকেই তৈরি ছিল অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা। গ্রিন করিডর করে ফুসফুস নিয়ে যাওয়া হয় মেডিকায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা সার্জারি হয়। ডাক্তার কুণাল সরকারের নেতৃত্বে অস্ত্রপচারের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক অর্পণ চক্রবর্তী, চিকিৎসক সপ্তর্ষি রায়, চিকিৎসক সৌম্যজিৎ ঘোষ, চিকিৎসক দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গে এতদিন ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হত না। সরকারি অনুমতি, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর অভাব ইত্যাদি নানা কারণে থমকে ছিল। ফুসফুস প্রতিস্থাপন করতে হলে লাইসেন্স দরকার হয়। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে হাসপাতালের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে প্রতিস্থাপন কমিটির সঙ্গে আলোচনার পরেই এই লাইসেন্স দেওয়া হয়। কলকাতার অনেক হাসপাতালই এখন এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। এই সার্জারি সফল হলে প্রথমবার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের নজির তৈরি হবে কলকাতাতেই।