দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৫০ নয় ১০০। পুলিশের ধারণা, অন্তত ১০০ টি খুন করেছেন দিল্লির এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। যদিও তিনি নিজে পুলিশকে বলেছেন, ৫০ টা খুন করার পরে আর হিসাব রাখিনি। তবে আরও অনেকে খুন হয়েছে আমার হাতে।
খুন বাদে অপহরণ, জাল গ্যাসের এজেন্সি চালানো, কিডনি পাচার চক্র চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ধরা পড়ে তিনি জেলে ছিলেন। মাঝে প্যারোলে মুক্তি পান। তখন গা ডাকা দিয়ে দিল্লিতে পালিয়ে আসেন। বিয়েও করেছিলেন। এক মহিলা সব জেনেশুনেই বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলেন তাঁকে। গত মঙ্গলবার তিনি ফের ধরা পড়েছেন।
তাঁর নাম দেবেন্দর শর্মা। বয়স ৬২। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে তাঁর বাড়ি। আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি নিয়ে পাশ করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ১৯৮৪ সালে বিহারের সিওয়ান থেকে আয়ুর্বেদ নিয়ে পাশ করেন। ওই বছরেই তিনি জয়পুরে চালু করেন একটি ক্লিনিক। ১৯৯২ সালে তিনি ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে গ্যাসের ডিলারশিপ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এক ব্যক্তি তাঁকে ঠকায়। তাঁর বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি আলিগড়ের চাহরা গ্রামে ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলেন। তখন থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধের সঙ্গে।
২০০১ সালে তিনি আমরোহায় আর একটি ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলেন। ২০০৩ সালে আরও কয়েকজন দুষ্কৃতীর সঙ্গে তিনি শুরু করেন ট্যাক্সি ছিনতাই। তাঁরা আলিগড় থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করতেন। কোনও নির্জন জায়গায় গিয়ে ট্যাক্সিচালককে খুন করতেন। দেহটি ফেলে দিতেন কাশগঞ্জে হাজারা খালে। ওই খালে অনেক কুমির আছে। ছিনতাই করা ট্যাক্সি বেচে তাঁরা বিপুল অঙ্কের অর্থ লাভ করতেন। তাঁরা একাধিকবার এলপিজি ভর্তি ট্রাকও লুঠ করেছেন। ট্রাকচালকরা খুন হয়েছেন তাঁদের হাতে।
২০০৩ সালে দেবেন্দর শর্মা জয়পুর, বল্লভগড়, গুরগাঁও এবং আরও কয়েকটি জায়গায় কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত হন। ২০০৪ সালে আরও কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে তিনি গ্রেফতার হন। তার আগে তিনি অন্তত ১২৫ জনের বেআইনি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছিলেন। প্রতিটি ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য তিনি পেয়েছিলেন পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকা।
এতগুলি অপরাধের জন্য তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তিনি জয়পুরে সেন্ট্রাল জেলে ছিলেন। ১৬ বছর জেলে থাকার পর গত জানুয়ারি মাসে তিনি ২০ দিনের প্যারোলে মুক্তি পান। এইসময় নিজের গ্রাম থেকে লুকিয়ে চলে আসেন দিল্লিতে। প্রথমে রাজধানীর মোহন গার্ডেন নামে এক জায়গায় জনৈক পরিচিতের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। পরে বাপরোলা অঞ্চলে চলে আসেন। সেখানে এক বিধবাকে বিয়ে করেন।
দিল্লিতে তিনি সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ধরা পড়ার পরে টানা ২৪ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করা হয়। জেরার সময় তিনি ছিলেন শান্ত। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।