
জেলায় গিয়ে ভোট বিপর্যয়ের কারণ খোঁজার সিদ্ধান্ত।
শেষ আপডেট: 16 June 2024 08:55
দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: টার্গেট ছিল ৪২ এ ৩০। প্রতি দফা ভোট শেষে পদ্মশিবিরের দাবি ছিল, বাংলায় এবার নজরকাড়া ফল হবে। ৪ জুন ফল প্রকাশের পর অবশ্য দেখা যায় গতবারের চেয়েও তৃণমূল ১১টি বেশি আসনে জিতেছে। অন্যদিকে নিজেদের ঝুলিতে থাকা ১৮ থেকে ৬টি খুইয়ে বিজেপিতে নামতে হয়েছে ১২ তে।
নিয়োগ দুর্নীতি, সন্দেশখালি কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে এবারের ভোটে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড়কে তীব্রতর করতে চেয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট হওয়ায় বাড়তি আশা দেখেছিলেন তাঁরা। ঘন ঘন প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তা সত্ত্বেও কেন এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে রবিবার সল্টলেকের অফিসে বৈঠকে বসেছিল বিজেপির কোর কমিটি।
কী আলোচনা হল কমিটিতে?
দলীয় সূত্রের খবর, বিপর্যযের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মূলত দায়ী করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পকে। তবে বিপর্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ খুঁজতে জেলায় জেলায় গিয়ে নেতা, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তারপরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক পদেও রদবদল আনা হতে পারে।
দলের এক রাজ্য নেতার কথায়, "যাঁরা নীচুতলায় লড়াই করে পার্টিটা করেন, এবার সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে বিপর্যযের কারণ জানা হবে। সেজন্যই জেলায় জেলায় গিয়ে সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত।"
উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, রাঢ়বঙ্গ, কলকাতা এবং হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুর, এই পাঁচটি সাংগঠনিক জোনের অধীনেই জেলায় জেলায় বিপর্যয়ের কারণ খোঁজা হবে। পুরো বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীকে। বৈঠকে প্রার্থীদের পাশাপাশি জেলা এবং মণ্ডল নেতৃত্বকেও ডাকা হবে। তবে কবে থেকে এই বৈঠক শুরু হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য নেতাদের একাংশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরের জেতা আসনের পরিবর্তে দিলীপকে এবারে প্রার্থী করা হয়েছিল বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ। এরপর থেকে কখনও 'কাঠিবাজি'র অভিযোগে কখনও 'নবীন-প্রবীণ' দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছেন দিলীপ। গত চার বছর ধরে দলের কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে ডাকা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নাম না করলেও দিলীপের আক্রমণের তির ছিল বঙ্গ বিজেপির ক্ষমতাবান গোষ্ঠী অর্থাৎ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। ফলে বৈঠকে সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে কোর কমিটির বৈঠকে দিলীপ উপস্থিত থাকলেও শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যায়নি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর নির্দেশে এদিন কোচবিহারে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে আক্রান্তদের দেখতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু।
বৈঠকে কোর কমিটির বাকি সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাংলার দায়িত্বে থাকা চার কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিত মালব্য এবং আশা লাকড়া।
আগামী ১০ জুলাই মানিকতলা, রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ এবং বাগদা, বাংলার চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। চার কেন্দ্রে কাদের প্রার্থী করা হতে পারে তা নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, চারটি বিধানসভার নেতৃত্বদের কাছ থেকে তিনটি করে নাম চেয়ে পাঠানো হয়েছে। রবিবার সেই নামগুলি পাঠানো হবে দিল্লিতে। ফলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই চার আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারে পদ্ম শিবির। ইতিমধ্যে উপ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল এবং বাম-কংগ্রেস জোট। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, চারটির মধ্যে অন্তত তিনটিতে বিজেপি জিতবেই।