দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি সপ্তাহের শেষে 'ভারচুয়াল দেওয়ালি' পালিত হবে ব্রিটেনে। তার আগে শুক্রবার 'দেওয়ালি স্পিরিট' নিয়ে ভাষণ দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, দেওয়ালি মানে অন্ধকারের ওপরে আলোর বিজয়, অশুভের ওপরে শুভর বিজয়।
করোনা অতিমহামারীর দ্বিতীয় ওয়েভের ভয়ে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের লকডাউন শুরু হয়েছে ব্রিটেনে। মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত লকডাউন চলবে। বরিস জনসন বলেন, "আমরা সকলেই জানি, আগামী দিনে আমাদের বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা ফের ঘুরে দাঁড়াব। আমরা সমবেতভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়লাভ করব।" এর পরে দেওয়ালির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "ওই উৎসব আমাদের শেখায়, অন্ধকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে আলো। অশুভের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে শুভ।"
রামায়ণের প্রসঙ্গ তুলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রভু রাম এবং তাঁর স্ত্রী সীতা রাবণকে পরাজিত করার পরে লক্ষ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন। আমরাও একদিন জয়লাভ করব। সেই আনন্দে প্রদীপ জ্বালাব।" দেওয়ালি যাতে নিরাপদ থাকে, সেজন্য ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়রা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, "আমি জানি, প্রতি বছর দেওয়ালির সময় আপনারা আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেন। সামোসা ও গোলাব জামুন সহযোগে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু এবছর আপনাদের সকলের থেকে দূরে থেকেই দেওয়ালি পালন করতে হচ্ছে।"
করোনা সংক্রমণের সংখ্যার বিচারে ব্রিটেনের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। এদেশে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌছেছিল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। তারপরে দৈনিক সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। কানপুর আইআইটি-র প্রফেসর তথা সরকারি কমিটির অন্যতম সদস্য মণীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, "আমাদের গাণিতিক মডেলের হিসাবমতো দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখনই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হবেন।"
গত সেপ্টেম্বর সরকারের সেরোলজিক্যাল সার্ভেতে দেখা যায়, দেশের জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু কমিটির হিসাবে সংক্রামিতের হার আরও অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। মণীন্দ্র আগরওয়ালের মতে, সেরোলজিক্যাল সার্ভের স্যাম্পলিং সম্ভবত যথাযথ ছিল না। কিন্তু সরকারি কমিটি নির্ভর করেছে গাণিতিক মডেলের ওপরে। কমিটিতে আছেন কয়েকজন ভাইরোলজিস্ট, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ।
কমিটি সতর্ক করে বলেছে, ঠিকমতো সতর্কতা না নিলে তাদের হিসাব নাও মিলতে পারে। মাস্ক পরা বা সামাজিক দূরত্ব রাখার বিধি যদি না মেনে চলা হয়, তাহলে এক মাসে ২৬ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন।
এরই মধ্যে আশার কথা হল, বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি জানতে পেরেছেন, ভারতে করোনাভাইরাসের মধ্যে বড় ধরনের কোনও মিউটেশন ঘটেনি। ফলে এদেশে ভ্যাকসিন বানাতে অসুবিধা হবে না। দেশে অতিমহামারীর পরিস্থিতি এখন কতদূর নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে, ভ্যাকসিন তৈরি হলে তা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে, তা নিয়ে শনিবার বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতে তিনটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। তার মধ্যে দু’টি ভ্যাকসিন নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে।
এরপরে বলা হয়, আইসিএমআর এবং ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি কোভিড ১৯ ভাইরাসের জিনোম নিয়ে সমীক্ষা করেছিল। তাতে দেখা যায়, ভারতে ওই ভাইরাস জিনগত দিক থেকে স্থিতিশীল। তাতে কোনও বড় মিউটেশন হয়নি।