দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, জোচ্চুরি করে দর্শকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখায় রিপাবলিক টিভি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রিপাবলিক টিভি। কিন্তু শীর্ষ আদালত বৃহস্পতিবার বলল, সাধারণ মানুষ যেমন তদন্তের মুখে পড়লে হাইকোর্টে যায়, আপনাদেরও তাই যেতে হবে।
রিপাবলিক টিভির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে মুম্বই পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলে, আপনারা ইতিমধ্যে হাইকোর্টে পিটিশন ফাইল করেছেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আপনাদের আর্জির শুনানি হলে সর্বত্র এই বার্তা যাবে যে, হাইকোর্টের ওপরে আমাদের আস্থা নেই। তাই সাধারণ মানুষের মতো আপনাদের হাইকোর্টেই যেতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এদিন বলে, রিপাবলিক টিভির অফিস মুম্বইয়ের ওরলিতে অবস্থিত। তার কাছেই ফ্লোরা ফাউন্টেন এলাকায় অবস্থিত বম্বে হাইকোর্ট। রিপাবলিক টিভির সেখানেই যাওয়া উচিত।
প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে এদিন রিপাবলিক টিভির হয়ে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার যেভাবে মিডিয়াকে ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছেন, তা উদ্বেগজনক। অন্যদিকে মুম্বই পুলিশ বলে, রিপাবলিক টিভি চেষ্টা করছে যাতে তদন্ত ভুল পথে পরিচালিত হয়। বুধবার গভীর রাতে মুম্বই পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দিয়ে বলে, রিপাবলিক টিভি আইনের প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। তারা ওই মামলার ওপরে প্রোগ্রাম করছে। সাক্ষীদের ভয় দেখাচ্ছে।
পুলিশের হলফনামায় বলা হয়েছে, "রিপাবলিক টিভি এই মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার দাবি তুলেছে। এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই। টিআরপি রেটিং নিয়ে জোচ্চুরির তদন্ত তারা বানচাল করতে চায়। তারা মিডিয়া ট্রায়াল করতে চায়। রিপাবলিক টিভির এডিটর ইন চিফ এই মামলা নিয়ে প্রোগ্রাম করছেন। সেখানে মামলা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। তাঁরা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন।"
রিপাবলিক টিভি বাদে আরও দু'টি চ্যানেলের বিরুদ্ধে টিআরপি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। মুম্বইয়ের পুলিশ প্রধান পরমবীর সিং বলেন, অভিযুক্ত চ্যানেলগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে তদন্ত হবে। পুলিশ দেখবে, তারা বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য অসাধু উপায় অবলম্বন করে কিনা। শুধু রিপাবলিক টিভি নয়, আরও কয়েকটি চ্যানেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও পরীক্ষা করা হবে।
মুম্বইয়ের পুলিশ প্রধান স্পষ্ট বলেন, অভিযুক্ত চ্যানেলের ম্যানেজমেন্টের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের সম্পর্কে তদন্ত করা হবে। তাঁরা যত সিনিয়রই হোন, তদন্ত থেকে রেহাই পাবেন না। যদি দেখা যায়, কেউ অসাধু পথে অর্থ সংগ্রহ করেছেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তো সিজ হবেই, পরে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।