বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, “চিতাবাঘটিকে আপাতত গরুমারা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাকে কোথায় ছাড়া হবে।”

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 11 August 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ দেড় মাসের আতঙ্কের অবসান। অবশেষে বন দফতরের পাতা খাঁচায় ধরা পড়ল ভান্ডিগুড়ি চা বাগানে ঘোরাফেরা করা সেই চিতাবাঘ (Leopard)। রবিবার ভোররাতে বন দফতরের (Forest Department) পাতা ফাঁদে নিজেই ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি।
স্বভাবতই চা বাগানের শ্রমিকদের স্বস্তির নিঃশ্বাস, যাঁরা এতদিন চিতাবাঘের ভয়ে কাজ বন্ধ করে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির ভান্ডিগুড়ি চা বাগানে প্রায় দেড় মাস ধরে চিতাবাঘের উপস্থিতি টের পাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। কখনও চা গাছে ছেঁড়া ডাল, কখনও ছাগল বা কুকুরের নিথর দেহ দেখে আতঙ্ক ছড়ায় বাগানজুড়ে। বেশ কয়েকবার চা বাগানের ভেতরে তাকে দেখা যাওয়ায় বন দফতরে খবর দেওয়া হয়।
বন দফতরের একটি বিশেষ দল গত সপ্তাহ থেকেই তৎপর হয়ে ওঠে। একাধিক নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয় বাগানের বিভিন্ন প্রান্তে। শেষমেশ রবিবার ভোরে একটি পাতা খাঁচায় মাংসের টোপ রাখার পর রবিবার ভোরে সেই খাঁচার দরজা আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। ভিতরে তখন চিতাবাঘটি!
বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, “চিতাবাঘটিকে আপাতত গরুমারা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাকে কোথায় ছাড়া হবে।”
এদিকে চা শ্রমিকদের মুখে এখন খুশির ছাপ। শ্রমিক নেত্রী মালতী ওরাও বলেন, “প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে কাজে যেতে হচ্ছিল। এখন অন্তত নিশ্চিন্তে কাজ করা যাবে।”
তবে বন দফতরের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, পাহাড়ি বনাঞ্চলের কাছাকাছি যেসব চা বাগান, সেখানে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তাই শ্রমিকদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।