
সুজন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 3 April 2025 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) মাধ্যমে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায় বৃহস্পতিবার বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালতও। এই ঘোষণার পর থেকে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন শিক্ষকরা। দুর্নীতি নিয়ে প্রথম থেকে সরকারের দিকে আঙুল তোলা বিরোধীরা ছিঃ ছিঃ করছেন। বামনেতা সুজন চক্রবর্তী গোটা বিষয়ের জন্য রাজ্য সরকারের অপদার্থতাকে দায়ি করেছেন।
২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে কলুষিত হয়েছে। যা সংশোধনযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার এমনই জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। কিন্তু ওই পরীক্ষায় যাঁরা যোগ্যতার ভিত্তিতে পাশ করেছিলেন এবং চাকরি পেয়েছিলেন, সেনিয়ে চিন্তিত বামেরা। সুজনের বক্তব্য, এভাবে সরকারের জন্য, তার দুর্নীতির জন্য এভাবে যোগ্যদের পেটে লাথি মারা কার্যত যায় না। কীভাবে তাঁদের চাকরি বহাল রাখা যায় বা বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, তা সরকারের ভাবা দরকার।
বামনেতা বলেন, 'খুবই অস্বস্তির ব্যাপার যে পশ্চিমবাংলায় ১৬ সালের এসএসসির নিয়োগ সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করল। হাইকোর্ট এই অর্ডার দিয়েছিলই। সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিল। বলল, এমন ধরনের অপরাধ হয়েছে, দুর্নীতি এত ভয়াবহ এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে যেভাবে কলুসিত করা হয়েছে, এটা সংশোধন করার মতো কোনও সুযোগ নেই। এক বছর সুযোগ পেয়েছিল আমাদের সরকার যে কারা যোগ্য আর কারা নয় তা স্পষ্ট করতে। একবছর ধরে সরকার স্পষ্ট করতে পারল না। কতোটা টাকা খেয়েছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়ের জীবন ধ্বংস করছে কেন। কিছু অযোগ্যদের টাকা নিয়ে চাকরিতে ঢোকানো হয়েছে রাজ্য সরকার এবং শাসক দলের তরফে, তাদের বাঁচানোর জন্য স্রেফ এতগুলো ছেলেমেয়ের চাকরি গেল! সরকার দাঁড়াল অযোগ্যদের পাশে, যোগ্যদের বাতিল হল চাকরি।'
সরকারের জন্য গোটা রাজ্যের মুখ পুড়ল আজ। সুজন এমনই দাবি করলেন। তাঁর মতে, সরকার সময় পেয়েও যোগ্যদের পাশে দাঁড়াল না বলে আজ সুপ্রিম কোর্টে শুধু রাজ্যের মুখ পুড়ল এমন না, আমাদের ছেলেমেয়েগুলোর ভবিষ্যতও গেল। কী হবে এখন ওদের। টাকা ফেরত দিতে বলেছে।
এই সরকারকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। শুধু সরিয়ে দেওয়া নয়, তিনি বলেন, ' লাথি মেরে এই সরকারকে বাতিল করা উচিত। এই সরকার যোগ্য ছেলেমেয়েদের পেটে লাথি মারল। ভয়াবহ! ভাবাই যায় না।'
পরে চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বাম নেতা বলেন, 'হাইকোর্ট বলেছিল, যাঁরা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত আছে, তাঁদের সিবিআই হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করুক। সেটাই জরুরি ছিল। এই নিয়ে যদিও সুপ্রিম কোর্ট কিছু জানায়নি। যারা টাকা নিয়েছে তারা বহাল তবিয়তে মন্ত্রীর চেয়ারে বসে থাকবে আর যোগ্যদের চাকরি যাবে, এ কখনও হতে পারে না। অবিলম্বে তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ করতে বলেছে। আমি জানি না সরকার তা করতে পারবে কিনা। আমার মনে হয়, অযোগ্যদের চাকরি বাতিল করে যোগ্যদের চাকরি জন্য কী বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, তা ভাবা দরকার। সরকার ও আদালতকে তা খুঁজে বের করতে হবে। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।'