বামেদের ইস্তাহারের পাতায় পাতায় উঠে এসেছে ‘অভয়া’ প্রসঙ্গ, যা বর্তমান রাজনৈতিক আবহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শেষ আপডেট: 4 April 2026 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মন্দির-মসজিদ নয়, কাজ চাই’, এই মূল দাবিকে সামনে রেখেই বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ইস্তাহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট (CPM Manifesto)। শুক্রবার প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে বিমান বসু (Biman Basu) এবং মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) উপস্থিতিতে প্রকাশিত এই নির্বাচনী ইস্তাহারে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তেমনই নারী নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসনের অঙ্গীকার করেছে বামেরা। ইস্তাহারের পাতায় পাতায় উঠে এসেছে ‘অভয়া’ প্রসঙ্গ, যা বর্তমান রাজনৈতিক আবহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এক নজরে বামেদের প্রধান প্রতিশ্রুতি
১. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন
প্রতিটি পরিবারের জন্য স্থায়ী কাজের সংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামফ্রন্ট। প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে অন্তত দু'টি চাকরির বিকল্প দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় বছরে ২০০ দিন এবং শহরে ১২০ দিন কাজের গ্যারান্টি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত এসএসসি, সিএসসি ও পিএসসি পরীক্ষার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভারী ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনরুত্থান এবং আইটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে এই তালিকায়।
২. জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা
বামেদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে রয়েছে ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি (গ্রামীণ ও শহর এলাকায়)। তবে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য এই ন্যূনতম মজুরি ৭০০ টাকা করার দাবি রাখা হয়েছে। প্রবীণদের জন্য ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা এবং প্রান্তিক ও কোয়্যার (Queer) শ্রমিকদের জন্য সমকাজে সমমজুরির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।
৩. বিদ্যুৎ ও কৃষি
আয়কর দাতা নন, এমন নাগরিকদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ অর্ধেক দামে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামফ্রন্ট। কৃষি ক্ষেত্রে ১৬টি ফসলের জন্য উৎপাদন খরচের দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
রাজ্যের বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা এবং ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুবের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৫. নারী নিরাপত্তা ও ‘অভয়া’ বাহিনী
আরজি কর আবহে নারী নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বামেরা। ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরির পাশাপাশি নির্যাতিতাদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু স্বশাসিত ‘অভয়া বাহিনী’ গঠন করার পরিকল্পনার কথা ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইস্তাহারের শেষলগ্নে ‘লুটেরার ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, তোলাবাজ-মুক্ত নতুন বাংলা’র ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনার কথা বলা হয়েছে। মৌলবাদের প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ এবং মন্দির-মসজিদের রাজনীতির বদলে উন্নয়নকেই পাথেয় করার ডাক দিয়েছেন বিমান বসুরা।