একদা গড়বেতার ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ এই সিপিএম নেতাকেই এবার তাঁর পুরনো দুর্গে প্রার্থী করল দল। আর এই নাম ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে ফিরছে পঁচিশ বছর আগের সেই রক্তক্ষয়ী ‘ছোট আঙারিয়া’র স্মৃতি।

তপন ঘোষ, গড়বেতার সিপিএম প্রার্থী
শেষ আপডেট: 23 March 2026 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর থেকে দক্ষিণ— বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) ভাঙা ঘর জোড়া লাগাতে এবার পুরনো অভিজ্ঞ সেনাপতিদের ওপরই ভরসা রেখেছে আলিমুদ্দিন। সোমবার রাজ্যের আরও ১৫টি বিধানসভা (CPM Candidate List 2026) আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। তবে সব ছাপিয়ে রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি তপন ঘোষ (Tapan Ghosh Chhoto Angariya)। একদা গড়বেতার ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ এই সিপিএম নেতাকেই এবার তাঁর পুরনো দুর্গে প্রার্থী করল দল। আর এই নাম ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে ফিরছে পঁচিশ বছর আগের সেই রক্তক্ষয়ী ‘ছোট আঙারিয়া’র স্মৃতি।
বামফ্রন্টের প্রকাশিত তৃতীয় তালিকায় দেখা যাচ্ছে, শরিকি সমঝোতা মেনে বেশ কিছু রদবদল করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার আসনে এবার আরএসপি-র বদলে লড়ছে সিপিএম। কোচবিহারের সিতাই এবং কলকাতার শ্যামপুকুর আসনটি ছাড়া হয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লককে। কলকাতার এন্টালিতে বামেদের বাজি অভিজ্ঞ নেতা আব্দুর রউফ। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা আসনে সুশান্ত ঘোষের ছায়াসঙ্গী তপন ঘোষের নাম ঘোষণা হতেই জেলা তথা রাজ্য রাজনীতিতে একটা কিন্তু কিন্তু ব্যাপার শুরু হয়েছে।
কেন তপন ঘোষকে নিয়ে এত বিতর্ক? উত্তর লুকিয়ে আছে ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারির অভিশপ্ত রাতে। গড়বেতার ছোট আঙারিয়া গ্রামে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে বৈঠক চলাকালীন অগ্নিকাণ্ড ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল পাঁচ তৃণমূল কর্মীকে। তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করেছিলেন। সিবিআই তদন্তে যে ক’জন গ্রেফতার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই তপন ঘোষ।
পালাবদলের পর সুশান্ত ঘোষ বা সুকুর আলিদের মতো নেতারা এলাকাছাড়া হলেও, স্থানীয়দের মতে তপন ঘোষ কিন্তু গড়বেতায় নিজের প্রভাব বজায় রেখেছিলেন ‘বহাল তবিয়তে’। আজও ৪ জানুয়ারি দিনটিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে তৃণমূল। ছোট আঙারিয়ার সেই ক্ষত এখনও টাটকা। ঠিক সেই আবহেই তপন ঘোষকে ভোটের ময়দানে নামিয়ে বামেরা কী বার্তা দিতে চাইল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। স্রেফ প্রার্থী করা না কি সেই পুরনো ‘বাহুবল’ ফিরে পেতে চাইছে সিপিএম তা আপাতত ঝাপসা। তবে গড়বেতার লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তার ফয়সালা হবে ব্যালটেই।