
শেষ আপডেট: 1 September 2023 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় লেখিকা পরিচালক প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস এর নয়া উদ্যোগে 'নোয়া'র যাত্রা শুরু হল। টালিগঞ্জের দাসানি স্টুডিওর পাশে গত রবিবার খুলে গেল ক্যাফে বুটিক রেস্তোরাঁ 'নোয়া'। এটির উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বিশিষ্ট অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, (Leena Ganguly) শৈবাল বন্দোপাধ্যায়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ছিল টলিপাড়ার কলাকুশলীদের চাঁদের হাট। তারই ফাঁকে পাওয়া গেল রাজ্যের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পরিচালক প্রযোজক লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে। (Leena Ganguly opens coffeeshop) লীনা শৈবালের সোহাগে আদরে 'নোয়া' নিয়ে নানা কথা একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এল। কথা বললেন চৈতালি দত্ত।
(হেসে) ২০১৬ থেকে যেটা শুরু হয়েছিল সেটা একেবারেই আমাদের নিজেদের মধ্যে ছিল। প্রধানত শ্যুটিংয়ের জন্যই ছিল। এখান থেকেই শিল্পীদের কস্টিউম ব্যবহার করা হত, খাবার দাবার যেত। রবিবার থেকে পেশাগত ভাবে নোয়ার শুভ সূচনা হল।

ক্যাফে ,রেস্তোরাঁ, বুটিক ছাড়াও 'টেক আওয়ে'র মাধ্যমে মানুষ অর্ডারে খাবার এখান থেকে নিয়ে যেতে পারবেন অর্থাৎ এই ওয়ান স্টপ সেন্টারের বিশেষত্ব কি?
বিশেষত্ব বলতে গেলে প্রথমেই বলব ভাললাগা। আর এই ভাললাগার থেকেই এটা করা। 'কফি শপ' খুবই প্রয়োজনীয় একটি জায়গা। যেখানে বসে ছেলেমেয়েরা কথাবার্তা বলতে পারে। সিনিয়াররা নানারকম বিষয় আলোচনা করতে পারেন। কলকাতায় ভীষণভাবে এখন জায়গা কমে যাচ্ছে।সেক্ষেত্রে টালিগঞ্জের মধ্যে স্টুডিও পাড়ায় একটা সুন্দর পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানুষ এখানে আসতে পারেন। টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়ার মধ্যে কোনও কফি শপ নেই। সেটা একটা ব্যাপার। এখানের কফি শপে নানা রকমের খাবার পাওয়া যায়। সেটা আরেকটা ব্যাপার। এছাড়াও এখানে কেউ একা বা পরিবারের সঙ্গে এসে নানা রকমের বই পড়তে পারেন।

এখানে মহিলা-পুরুষের নানা রকমের পোশাক, গয়না, হোম ডেকর আইটেম ইত্যাদি রয়েছে। যেহেতু এইসব নিজের ভাললাগার তাই আমার মনে হয়েছে এগুলো এখানে চালু করা যায়। এখানে বাড়ির মহিলাদের হাতে তৈরি খাঁটি ঘি, মধু রয়েছে। মধু সুন্দরবন থেকে আসবে। আসলে আমি একটু অন্যভাবে করার চেষ্টা করেছি। যেহেতু আমি মহিলা কমিশনে আছি তাই আমি মহিলাদেরও সবসময় একটু সাপোর্ট করার চেষ্টা করি।
নোয়া নামকরণের পেছনে আপনার এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ধরনের চিন্তাভাবনা কাজ করেছিল?

ভাল মানুষদের সমাহার বলতে চেয়েছি। 'নোয়া'র আরেকটা মানে আছে বিউটিফুল গার্ল। যদিও সেই সময় মাথায় ছিল না তবুও বলতে হয় মহিলাদের এয়োস্ত্রীর চিহ্ন। আসলে সবকিছু মিলিয়ে নোয়া শুনতে খুব ভাল লাগে। নোয়া হল সততা সেই সঙ্গে বিশ্রাম ও শান্তির জায়গা।
'নোয়ার' সাজঘর কতটা 'আপ টু দ্য মার্ক'?

'নোয়া'র সাজঘর কতটা 'আপ টু দ্য মার্ক' সেটা তো দর্শক,ক্রেতারা বলবেন। যাঁরা এখানে শাড়ি দেখতে আসবেন এবং শাড়ি পরবেন তাঁরা বলবেন। আমি তো মনে করি এখানে প্রতিটা জিনিস 'আপ টু দ্য মার্ক'। কারণ যেহেতু আমি নিজে পছন্দ করে সব কিনেছি। এখানে কোনও পাওয়ার লুম নেই সবই হ্যান্ডলুম। এমনকি বেশ কিছু মহিলাদের হাতে তৈরি শাড়িও এখানে পাওয়া যাবে।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের তাঁতশিল্পীদের হাতে তৈরি শাড়ি এখানে পাওয়া যাবে?

অবশ্যই। এই মুহূর্তে হ্যান্ডলুম শাড়ির বিরাট রেঞ্জ রয়েছে। এছাড়াও বেনারসের কারখানা থেকে তৈরি করা বেনারসি শাড়ি থেকে শুরু করে অন্যান্য রকমারি শাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গার থেকে শাড়ি নিতে হয় বলে এই যোগাযোগ গুলো আমাদের রয়েছে। পুজোর আগে মধ্যপ্রদেশের চান্দেরি গ্রাম থেকে হাতে তৈরি বর্ণময় চান্দেরি এবং লক্ষ্ণৌ থেকে বাহারি চিকনের শাড়ি এখানে আসবে। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু নিজস্ব ডিজাইনও থাকবে।
শাড়ি ছাড়া আর কী কী পোশাকের কালেকশন আছে?
মেয়েদের দোপাট্টা, ড্রেস মেটিরিয়াল ,পুরুষদের জামদানির পাঞ্জাবি ইত্যাদি পাওয়া যাবে। এছাড়াও রকমারি গয়না রয়েছে।
হোম ডেকর আইটেমে কী কী থাকছে?

পশ্চিমবাংলা, ভারতের নানা জায়গা থেকে সংগ্রহ করা রকমারি মাক্স,মূর্তি, কাঠের দুর্গা মূর্তি, সিরামিকসের এবং ডোকরা আইটেম রয়েছে । এছাড়াও কাশ্মীরে কাঠের শিকারা, হাউসবোট ইত্যাদি রয়েছে। থাকবে সমুদ্র পাড়েরও কিছু জিনিস। এছাড়াও জাপান থেকে সংগ্রহ করা জাপানিজ পুতুলও এখানে রয়েছে। আগামী দিনে বিদেশের রকমারি হোম ডেকর আইটেম এখানে পাওয়া যাবে।
'নোয়া'র রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদের বিশেষত্ব কী?

বাংলাদেশের শেফের রান্না করা বাংলাদেশী পদ এখানে পাওয়া যাবে। এছাড়াও কন্টিনেন্টাল, মোগলাই, কোরিয়ান ডিশ মিলবে।
ছোটখাটো কোনও অনুষ্ঠানের জন্য রেস্তোরাঁয় খাবারের আয়োজন করা কি সম্ভব?
হ্যাঁ। আউটডোর এবং ইনডোর মিলিয়ে ৪০-৫০ জনের এখানে বার্থডে পার্টি করার ব্যবস্থা রয়েছে।
কফি শপে কী ধরনের খাবার মিলবে?

নানা স্বাদের কফি থেকে শুরু করে মকটেল, সিজলিং ব্রাউনি, রকমারি পাস্তা, স্যান্ডউইচ, কোরিয়ান ড্রাই চিকেন, হেলদি স্যালাড, টিকিটাকা ফ্রায়েড ডিশ (ভেজ,ননভেজ) ইত্যাদি আছে। আমাদের কফি শপ এবং রেস্তোরাঁয় টেক আওয়ে এর ব্যবস্থা রয়েছে। এখন কিছুদিনের জন্য কলকাতার মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে ফ্রি হোম ডেলিভারি পরিষেবা চালু করা হয়েছে ।
আগামী দিনে 'নোয়া'কে নিয়ে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
অনেক কিছুর পরিকল্পনা আছে । এখানে সপ্তাহে একটা দিন নাটকের ওয়ার্কশপ থেকে শুরু করে কবিতা, গান, গল্পপাঠের আসর হবে। একেক দিন একেক রকমের হবে।
রুচি এবং শিল্পের অদ্ভুত মেলবন্ধনের গড়ে ওঠা 'নোয়া'র অন্দরসজ্জায় মুগ্ধ হতে হয়। মূল কারিগর কে?

আমাদের কলকাতার মধ্যে এমন কোনও 'সি ক্যাফে' নেই যেখানে বসে সমুদ্রকে অনুভব করতে পারি। সেটা আমার মতো করে আমি করতে চেয়েছি। আমার ভাবনাকে শিল্পনির্দেশক তন্ময় চক্রবর্তী রূপায়ণ করেছেন। সমুদ্র এবং সমুদ্র নীল রং বারবার ঘুরে ফিরে আসে 'নোয়া'তে। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই করা 'সি ক্যাফে' এটা একটা ইউনিক। কলকাতায় আদৌ এরকম 'সি ক্যাফে' আছে কিনা অতটা ঠিক জানা নেই।
আগামী দিনে নোয়া কলকাতা ছাড়াও অন্য শহরেও কি পাড়ি জমাবে?
(হেসে ফেলে) সেরকম তো অবশ্যই চিন্তাভাবনা আছে। নোয়াকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। দক্ষিণ কলকাতাতেও নোয়া খোলার ইচ্ছে আছে । এছাড়াও মুম্বইতে খুব শিগগিরই নোয়া খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ ওখানে বাঙালি খাবারের ভীষণ চাহিদা। অথচ সেই অর্থে খাঁটি বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না।
এস্থেটিক সাজসজ্জা, সঙ্গে বোহেমিয়ান থিম, জেনে নিন কলকাতার এই নতুন ক্যাফের ঠিকানা