কৃষক নেতার কান্নায় ফের সীমান্তে ফিরলেন আন্দোলনকারীরা, হিংসার জেরে ভাঙতে বসেছিল এতদিনের লড়াই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরে চলা পরিকল্পিত ও সুসংহত কৃষক আন্দোলনে অশান্তির ফুলকি ছড়িয়ে পড়েছে কিছু মানুষের বিশৃঙ্খলায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণে। প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির বুকে আয়োজিত কৃষকদের ট্র্যাক্টর ব়্যালির দিন তার চূড়ান্ত ছবি দেখে সা
শেষ আপডেট: 29 January 2021 06:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরে চলা পরিকল্পিত ও সুসংহত কৃষক আন্দোলনে অশান্তির ফুলকি ছড়িয়ে পড়েছে কিছু মানুষের বিশৃঙ্খলায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণে। প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির বুকে আয়োজিত কৃষকদের ট্র্যাক্টর ব়্যালির দিন তার চূড়ান্ত ছবি দেখে সারা দেশ। আর সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই প্রভাব ফেলেছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির উপরেও। বৃহস্পতিবার রাতেই উত্তরপ্রদেশ সরকার নির্দেশ দেয়, গাজিপুর সীমান্ত থেকে যেন কৃষকরা চলে যান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে ব়্যাফও।
চাপের মুখে একাধিক সংগঠন সরে দাঁড়িয়েছে আন্দোলন থেকে। কৃষকনেতারাও দিশাহারা। কার্যত রণে ভঙ্গ দেওয়ার মতো অবস্থা সীমান্ত জুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের মুখপাত্র, কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েতের আবেগপূর্ণ কথাগুলি যেন ফের আন্দোলনের মুখ ঘুরিয়ে দিল। হতাশ ও ব্যর্থ হতে চলার মুখে যেন নতুন এক অনুঘটকের কাজ করল তাঁর চোখের জল। গতকাল রাতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে কেঁদে ফেলেন রাকেশ। কৃষকদের কাছে আকুতি করেন, আন্দোলন ছেড়ে না যাওয়ার।
রাকেশ টিকায়েত বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা যেতে পারে। তারপরেও সরকার দমননীতি নিয়ে চলছে। এই হল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের আসল চেহারা।" তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন, “ওরা কৃষকদের উপর লাঠি চালাবে, মারার চেষ্টা করবে। ওদের উপর কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। আমরা পিছু হটব না।”
রাকেশের এই কান্নাভেজা আকুতি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আন্দোলনের প্রতি তাঁর আবেগ যেন মন ছুঁয়ে যায় সকলের। এর পরেই পুলিশকে উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা ফের জড়ো হতে থাকেন বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। রাতেই অনেকে ফিরে আসেন গাজিপুর সীমান্তে। আজ, শুক্রবার কৃষকদের নিজেদের মধ্যে একটি বড়সড় বৈঠক হওয়ার কথা। সেখান থেকেই আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির হবে।
দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক মহলও। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় উস্কানি দেওয়া ও যুক্ত থাকার অভিযোগে ২৫টি বেশি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০০ জনকে আটক ও অন্তত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা দায়ের হয়েছে রাকেশ টিকায়েতের বিরুদ্ধেও।
যদিও এই কৃষকনেতা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। দরকারে আত্মহত্যা করবেন, কিন্তু আন্দোলন বন্ধ করবেন না। প্রয়োজনে তিনি বুলেটের মুখে দাঁড়াতেও তৈরি। ইতিমধ্যেই রাকেশ টিকায়েতের আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা গেছে, এক যুবককে সপাটে চড় মারছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "উনি আমাদের সংগঠনের কেউ নন। উনি লাঠি নিয়ে আসছিলেন, অশান্তি পাকানোর মতলব ছিল। উনি মিডিয়ার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছেন। এখানে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ যেন থাকার চেষ্টা না করেন।"
অনেকেই বলছেন, এ সময়ে আন্দোলন ভেঙে যাওয়ার অর্থ যেন তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া। নভেম্বর থেকে যে ধৈর্য্য ও অনড় মনোভাবের পরিচয় কৃষকরা দিয়েছেন, তা কয়েক জন বহিরাগত দুষ্কৃতীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাণ্ডবে ভেঙেচুরে যাবে, এমনটা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। তাই দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাকেই সাড়া দিয়েছেন সকলে।