দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারে সরকার গড়তে না পেরে এবার এনডিএ-র বিধায়ক কিনতে চাইছেন আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব। মঙ্গলবার প্রবীণ বিজেপি নেতা সুশীল কুমার মোদী এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তিনি টুইটারে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছেন, জেলে থাকা অবস্থাতেই লালু এই মোবাইলের মাধ্যমে বাইরে যোগাযোগ করেন। পশুখাদ্য কেলেংকারি মামলায় এখন রাঁচিতে বন্দি আছেন লালু। প্রথমে তাঁকে রাখা হয়েছিল হটওয়ার সেন্ট্রাল জেলে। পরে স্বাস্থ্যের কারণে তিনি রিমস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত কয়েক মাস লালু একটি বাংলোয় ছিলেন। রিমসের ডায়রেক্টরের জন্য সরকার ওই বাংলোটি বরাদ্দ করেছিল। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার বেআইনিভাবে লালুকে ওই বাংলোয় থাকতে দেয়।
সুশীল কুমার মোদী এখন বিধান পরিষদের এথিক্স কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি বরাবরই লালুর কট্টর সমালোচক বলে পরিচিত। তিনি টুইটারে দাবি করেছেন, রাঁচির জেল থেকেই লালু ফোনে এনডিএ বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁদের বলছেন, আরজেডি-র পক্ষে যোগ দিলে বড় মন্ত্রক দেওয়া হবে।
সুশীল কুমার মোদী বলেন, "আমি লালুর নম্বরে ফোন করেছিলাম। তিনি নিজেই ফোন তুললেন। আমি তাঁকে বললাম, জেলে বসে নোংরা খেলা চালানোর চেষ্টা করবেন না। তাতে লাভ হবে না।" সেই সাতের দশক থেকে লালুকে চেনেন সুশীল। একসময় দু'জনেই পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা ছিলেন। তাঁরা ছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণের অনুগামী।
https://twitter.com/SushilModi/status/1331256676469510146
বিহারে সাম্প্রতিক নির্বাচনে লালুর দল পেয়েছে ৭৫ টি আসন। রাজ্যে এখন আরজেডি-ই বৃহত্তম দল। যদিও তাদের নেতৃত্বে পাঁচ দলের মহাগঠবন্ধন সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১২২ টি আসন পায়নি। আরজেডি-র চেয়ে মাত্র একটি আসন কম পেয়েছে বিজেপি। তার ফলেই সরকার গড়তে পেরেছে এনডিএ। নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডের ভোট কেটেছেন লোক জনশক্তি পার্টির চিরাগ পাসোয়ান।
নীতীশ কুমারের নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি আসন পেয়েছে বিজেপি। আপাতত বিহারে ১৪ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তার মধ্যে সাতজন মন্ত্রীই বিজেপির। জেডি ইউ-এর মন্ত্রী আছেন পাঁচজন। বিজেপির দুই নেতা তারকিশোর প্রসাদ ও রেণু দেবী উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
বিহারে দু'টি ছোট দল এনডিএ-তে যোগ দিয়েছিল। তাদের মধ্যে আছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতিনরাম মাঝির হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা এবং বলিউডের প্রাক্তন সেট ডিজাইনার মুকেশ সাহনির বিকাশশীল ইনসান পার্টি। ওই দুই দলের একজন করে নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে।