পুজোর আগে ফের একটি বড়সড় অবরোধের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা। প্রশাসনের তরফে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, কিন্তু জনজাতি কুড়মি সমাজের দাবি মেটানো না গেলে রেলপথে ফের অচলাবস্থার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 September 2025 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনে পুজো। আর তার আগেই নতুন করে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের কপালে।
মহালয়ার দিন, ২০ সেপ্টেম্বর থেকেই রেল অবরোধের ডাক দিয়েছে জনজাতি কুড়মি সমাজ (Kurmi Community)। সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা হলে এবারও আন্দোলনে রেলপথই হবে প্রধান অস্ত্র (Rail Blockade)। ফলে অবরোধে থমকে যেতে পারে জনজীবন।
কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি—তাদের এসটি তালিকাভুক্তি, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলভুক্ত করা ও সারনা ধর্মের স্বীকৃতি। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই আগেও একাধিকবার রেল অবরোধ করেছে সংগঠনটি। ২০২২-এর সেপ্টেম্বরে মহালয়ার আগেই এবং ২০২৩-এর এপ্রিলে হওয়া অবরোধে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় ট্রেন বন্ধ থাকায় সমস্যা হয়েছিল ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, রোগী—সবাইকে।
দুর্গাপুজোর আগে অবরোধের ডাকে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পুজোর বাজার, মালবাহী ট্রেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা—সবই এই অবরোধের জেরে থমকে যেতে পারে। সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, অবরোধ আটকাতে মরিয়া রেল ও প্রশাসন।
রেল জানিয়েছে, কুড়মি সমাজের তরফে ২২টি স্টেশনে অবরোধের চিঠি তাঁরা পেয়েছেন। আদ্রা ডিভিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এমন অবরোধ বেআইনি এবং সাংবিধানিক নিয়মবিরুদ্ধ। মঙ্গলবার কুস্তাউর স্টেশনে রেলের তরফে মক ড্রিল করা হয়—অবরোধ হলে কীভাবে তা সামলানো হবে, তার মহড়া চলে। কাঁদানে গ্যাসের সেলও ফাটানো হয়।
রেলের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, “যাত্রীদের ভোগান্তি হতে দেওয়া যাবে না। আইনের পথে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে অজিত মাহাত বলেন, “আমরা আগেই জানিয়েছি। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে রেল অবরোধ হবেই। তবে ২২ তারিখ পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক থাকায় সড়ক অবরোধ করব না। রেল আমাদের দাবির প্রতীক।”
রেলের মক ড্রিল এবং প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। বলেন, “রেল আমাদের ধমকাচ্ছে। গাড়ি ভাড়া করতে দিচ্ছে না। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। মরলে রেল লাইনে মরব।” পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলিকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি, “যারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে, ভোটে তার ফল পাবে।”
সবমিলিয়ে, পুজোর আগে ফের একটি বড়সড় অবরোধের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা। প্রশাসনের তরফে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, কিন্তু জনজাতি কুড়মি সমাজের দাবি মেটানো না গেলে রেলপথে ফের অচলাবস্থার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আর তার ধাক্কা সরাসরি গিয়ে পড়তে পারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।