বুথ পাহারায় থাকে তিস্তা-সূর্যরা, কিন্তু ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। ঠিক কী করে ভোটের দিন এরা?

ভোটের ডিউটিতে সূর্য-তিস্তারা (এআই দিয়ে তৈরি ছবি)
শেষ আপডেট: 6 April 2026 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায়-কলমে তারা সরকারি কর্মী (Government Employee)। নিয়ম মেনে তাদের জন্য সরকারি কোষাগার (State Exchequer) থেকে বরাদ্দ থাকে। কিন্তু ভোটাধিকার (Voting Rights) নেই। তবু নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে এক মুহূর্তের ঢিলেমি দেয় না। গোরুমারার (Gorumara Forest) মোতিরানি, রামী, কিরণরাজ, আমনা, শিলাবতী, হিলারি, তিস্তা, সূর্য—এই কুনকি হাতিরা (Kunki Elephant) প্রত্যেকেই নিঃশব্দ ‘ডিউটি’তে প্রস্তুত।
গোরুমারা জঙ্গল (Gorumara Jungle) এবং তার লাগোয়া বনাঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক ভোটগ্রহণ কেন্দ্র (Polling Booth)। বন্যপ্রাণীর আনাগোনা এখানে রোজকার ব্যাপার। বামনডাঙা (Bamandanga), টুন্ডু (Tundu), পানঝোড়া (Panjhora), লাটাগুড়ি (Lataguri), রামসাই (Ramsai)—এমন বহু জায়গায় জঙ্গলের একেবারে ধারে বসে ভোটের বুথ। ফলে ভোটের দিন যাতে হাতি, গন্ডার, বাইসন বা লেপার্ড (Leopard) লোকালয়ে ঢুকে না পড়ে, তার জন্য কড়া নজরদারি চালায় বন দফতর (Forest Department)।
এই নজরদারির অন্যতম ভরসা কুনকিরাই। জঙ্গলের ভিতরে যে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে তারা তৈরি থাকে। এবারের বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election)-এও সেই চিত্র বদলাচ্ছে না। রামসাইয়ের কালামাটি (Kalamati) এলাকার বাসিন্দা উমাশঙ্কর কুজুর (Umashankar Kujur) বলছেন, “অরণ্যের মাঝে আমাদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। সন্ধে হলেই পশুরা বেরিয়ে আসে। তবে ভোটের আগে থেকেই বন দফতর বুথ ঘিরে রাখে। আশা করি এ বারেও একই ব্যবস্থা থাকবে।”
বর্তমানে গোরুমারায় মোট ৩১টি কুনকি হাতি রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকেই নির্বাচনের ‘ডিউটি’তে থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (Election Commission)-এর তরফে নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ আসেনি বলে জানিয়েছেন গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও (ADFO) রাজীব দে (Rajib De)। তাঁর কথায়, “এখনও বিশেষ নির্দেশ আসেনি। তবে বনকর্মীরা প্রস্তুত আছেন, রুটিন নজরদারিও চলছে।”
ভোটাধিকার না থাকলেও ভোটের নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। জঙ্গলের এই নীরব ‘কর্মীরা’ই শেষ পর্যন্ত ভোটের দিনে হয়ে ওঠে অদৃশ্য রক্ষাকবচ।