পানিহাটি কেন্দ্রে আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এনিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 25 March 2026 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য আরও ১৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নতুন তালিকায় বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে পানিহাটি কেন্দ্রের নাম। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা-কে (RG Kar Case, Victim Mother)। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল।
এনিয়ে, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, 'বিজেপির প্রার্থী তালিকায় অভয়ার মা। পানিহাটি কেন্দ্রে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়েই বলছি, আপনারা যাদের ফাঁদে পা দিলেন, সেটা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা হয়ে গেল। অভয়ার যে ভয়ঙ্কর মৃত্যু ছিল, তাতে আমরাও প্রতিবাদী ছিলাম। আমরা সবাই বিকৃত প্রচারের বিরোধিতা করেছি। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের, কলকাতা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীকে ধরে ফেলেছিল। আপনারাই তো চেয়েছিলেন সিবিআইকে। ফলে হাইকোর্টও আপনাদের সিবিআই দিয়েছিল। কিন্তু তদন্তের পর দেখা গেছে, কলকাতা পুলিশ যে দোষীকে ধরেছিল, সেটাই ঠিক।'
আরও বলেন, 'আপনারা ক্রমাগত বলেছে, সিবিআই বিচার দেয়নি। কিন্তু সিবিআই আসলে বিজেপির। আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। এক মিনিটও সময় দেননি তাঁরা আপনাদের। উপেক্ষা করেছে। অপমান করেছে। আর আপনারা সেই বিজেপিরই প্রার্থী হলেন।'
কয়েকদিন আগেই মেয়ের বিচার পাওয়ার লড়াইকে আরও জোরদার করতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভয়ার বাবা-মা। সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার মা জানিয়েছিলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁকে রাজনীতিতে আসতেই হয়েছে। তাঁর কথায়, এ রাজ্যের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অবস্থা ভালো নয়। তাই তৃণমূলের মূল কাঠামোকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি জানান, তদন্ত নিয়ে তাঁদের এখনও ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে সিবিআই-এর ডিরেক্টর এবং কর্মকর্তা সীমা পাহুজা-র ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত সঠিকভাবে এগোচ্ছে না, যার ফলে মেয়ের বিচার পেতে দেরি হচ্ছে।
তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর বিচার পাওয়ার লড়াই আরও জোরদার হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ময়দানে নেমে তিনি মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন।