
শেষ আপডেট: 9 January 2023 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় যত এগোচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ব্যস্ততা। এখন আর বেড়ানো মানেই বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে, দল বেঁধে, লম্বা সময়ের ছুটি কাটাতে যাওয়া নয়। টুক করে দু-এক দিনের বেরিয়ে পড়াও এখন বেড়ানো। এখন বরং এই সমস্ত ছোট্ট বেড়ানোই বেশি জনপ্রিয়। তাই কম দূরত্বের এসব জায়গার খোঁজ এবং চাহিদাও বেশি।
শীতের বেড়ানোর এমনই এক ডেস্টিনেশন হতে পারে রায়গঞ্জের কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত, এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পাখিরালয় (Kulik Bird Sanctuary)। শীতকাল শুরু হতে না হতেই পাখিরা ভিড় জমায় এখানে। ঝাঁকেঝাঁকে পরিযায়ী পাখিদের ডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের এই বনভূমি।

জানা যায়, প্রধানত শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশ-সহ ভারতেরও নানা প্রান্ত থেকে পাখিরা ভিড় জমায় এই কুলিকে। ভিড় জমান পক্ষীপ্রেমী পর্যটকরাও। কুলিক পাখিরালয়ের উল্টোদিকেই থাকার জন্য রয়েছে লজ, রয়েছে খাওয়াদাওয়ার সুব্যবস্থাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১৬৪ প্রজাতির পাখি রয়েছে এই অভয়ারণ্যে। ইংরেজি বর্ণমালার 'ইউ' অক্ষরের আদলে এই অভয়ারণ্যের আয়তন ১.৩ বর্গ কিলোমিটার। প্রত্যেক বছর সত্তর থেকে আশি হাজার পরিযায়ী পাখি আসে। কুলিক নদীর সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে এই বনভূমি।

চিল, প্যাঁচা, কাঠঠোকরা থেকে শুরু করে মাছরাঙা, দোয়েল, শ্যামা, বুলবুলি, কোয়েল, দোয়েল, চড়ুই, বৌ কথা কও, বসন্তবৌরি, হাঁড়িচাচা, কোকিল, ইষ্টিকুটুম, বক, সারস, কী নেই এখানে। সঙ্গে প্রত্যেক শীতে ভিনদেশি পাখির ভিড়। ধূসর রঙা শামুকখোল থেকে শুরু করে বাচকা, পানকৌড়ি, ছোট করচে বক-- এই ধরনের পাখিরা উড়ে আসে এই ঝিলে। গাছে গাছে ডালপালা আর খড় দিয়ে গোল গোল বাসাও তৈরি করে তারা।

পাখি দেখার জন্য ঘন জঙ্গলে পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ার।

কলকাতা থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। ট্রেনে কিংবা গাড়িতে যেতে পারেন। সেখান থেকে কিছুটা এগোলেই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রয়েছে কুলিক পাখিরালয়।
দেখুন আরও ছবি।












আমাদের উত্তরবঙ্গেও আছে অ্যামাজনের জঙ্গল! এই শীতেই ঘুরে আসতে পারেন টুক করে