বৃন্দাবনের রাধা কুণ্ড-শ্যাম কুণ্ড থেকে আনা পবিত্র জলে নবদ্বীপের প্রতাপনগরে তৈরি কুণ্ডে সম্পন্ন হয় স্নান। সোমবার রাত ১২টা থেকে নবদ্বীপ শহর-সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা গঙ্গার ঘাটে স্নান করেন।

ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 14 October 2025 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাজার হাজার বছরের অর্জিত বিশ্বাসের ধারা বজায় রেখে মঙ্গলবার দেশজুড়ে কৃষ্ণক্ষেত্রে ঢল নামল মানুষের। পাপ মোচনের জন্য কৃষ্ণকুণ্ড-রাধাকুণ্ডে (Krishnakund-RaghaKund) পুণ্যস্নান করলেন মানুষ। আজ যে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি (krishnashtami 2025)।
এই বিশেষ দিনে বৃন্দাবনের রাধাকুণ্ড ও কৃষ্ণকুণ্ডে স্নান করলে ধুয়ে যায় সমস্ত পাপ। এই বিশ্বাসে ভিড় উপচে পড়েছে সেখানে। নবদ্বীপেও (Nabadwip) সোমবার রাত থেকে মানুষের ভিড়। নবদ্বীপ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি। পূণ্যভূমি হিসেবে এর পরিচিতি। বৃন্দাবনের রাধা কুণ্ড-শ্যাম কুণ্ড থেকে আনা পবিত্র জলে নবদ্বীপের প্রতাপনগরে তৈরি কুণ্ডে সম্পন্ন হয় স্নান। সোমবার রাত ১২টা থেকে নবদ্বীপ শহর-সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা গঙ্গার ঘাটে স্নান করেন।
কেন এই তিথিতে পুণ্যস্নান, সে গল্পও বড্ড আকর্ষণীয়। পুরাণ মতে, এই তিথিতে অরিষ্টাসুরকে বধ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। মথুরার রাজা কংস ছিলেন সম্পর্কে কৃষ্ণের মামা। কিন্তু দুষ্টের দমন করতে আবির্ভূত কৃষ্ণই যে হবে তাঁর বিপদের কারণ তার আগাম পূর্বাভাস ছিল। তাই বালক অবস্থা থেকেই কৃষ্ণকে দমন করতে পরের পর চেষ্টা করতে থাকেন কংস। কিন্তু এঁটে উঠতে পারছিলেন না কোনওভাবেই। পরের পর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে কৃষ্ণকে বধ করতে অরিষ্টাসুরকে পাঠান কংস।
কৃষ্ণ যে রাখাল বালক। মাঠে মাঠে গরু চড়িয়ে বেড়ান তিনি। বাছুরের রূপ ধরে কৃষ্ণের গরুর দলে মিশে যায় অরিষ্টাসুর। বৃষভাসুর নাম নিয়ে কৃষ্ণকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোনওভাবেই সুযোগ না আসায় এবার ক্রোধে অন্ধ হয় বাছুরগুলিকে হত্যা করতে আরম্ভ করে। কৃষ্ণের নজরে আসতেই অরিষ্টাসুরকে আছড়ে মারেন তিনি। অসুর তো বধ হল, কিন্তু শ্রীরাধা শোনালেন এক মারাত্মক কথা। অসুর তো ছিল গোরূপে। এবার তো গো-হত্যার পাপ লাগবে কৃষ্ণের। সেই পাপ থেকে মুক্তি পেতে কৃষ্ণকে সব তীর্থে গিয়ে ডুব দেওয়ার পরামর্শ দিলেন রাধা। স্মিত হাসি খেলে গেল কৃষ্ণের চোখে মুখে। নারদ মুনির পরামর্শে কৃষ্ণ এবার সমস্ত তীর্থক্ষেত্রকে ব্রজে আহ্বান করলেন। সব তীর্থ জলের রূপ ধরে আবির্ভূত হল। কৃষ্ণ তাঁর বাঁশি দিয়ে মাটি খুঁড়ে কুণ্ডে সেই জলধারাদের স্থান দিলেন। এরপর সেখানে ডুব দিয়ে ধুয়ে ফেললেন গোবধের পাপ।
রাধা তাঁর সখীদের নিয়ে নিজের হাতের চুড়ি দিয়ে মাটি খুঁড়ে তৈরি করলেন আরও একটি কুণ্ড। সেই কুণ্ড কৃষ্ণের শ্যাম কুণ্ডের পবিত্র জলে পরিপূর্ণ হল। কৃষ্ণ এবার ডুব দিলেন সেই রাধা কুণ্ডেও। সেই থেকে আজও আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে স্নানযাত্রার প্রথা চলে আসছে। সমস্ত পাপ ধুইয়ে শুদ্ধ হওয়ার আর্তি নিয়ে আজও মানুষ ডুব দেন কৃষ্ণ কুণ্ডে-রাধা কুণ্ডে।