
শেষ আপডেট: 18 August 2023 07:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের কোটায় সমস্ত ছাত্রাবাস তথা হস্টেলে এবার সিলিং ফ্যানে (ceiling fan spring) স্প্রিং লাগানো হচ্ছে। অর্থাৎ সিলিং ফ্যানে দড়ি বা বিছানার চাদর জড়িয়ে গলায় ফাঁস দিতে গেলে ফ্যানটাই ঝুলে পড়বে। ফলে আর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকবে না। কোটায় একের পর এক ছাত্র মৃত্যুর ঘটনার (Kota Student Death) পর নতুন এই ফ্যান এখন গোটা দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বাংলায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা যেমন গোটা রাজ্যকে নড়িয়ে দিয়েছে, তেমনই সর্বভারতীয় স্তরে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে রাজস্থানের কোটায় লাগাতার আত্মহত্যার (Suicide) ঘটনা নিয়ে। সিলিং ফ্যান থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যার ঘটনাই বেশি ঘটছে সেখানকার ছাত্রাবাসগুলিতে।
এহেন কোটা এখন বাবা-মা ও অভিভাবকদের মনে একটা আতঙ্ক তৈরি করেছে। পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণে হোক কিংবা জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইঁদুরদৌড়, অথবা হতাশা থেকে ফি বছর মৃত্যুমিছিল লেগে রয়েছে 'কোটা ফ্যাক্টরি'তে। চলতি অগস্ট মাসে কোটায় ৪ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। আর এ বছরে এখনও পর্যন্ত ২২ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে কোটায়।
গত বৃহস্পতিবার কোটায় উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এক জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন। ওই ছাত্রের বাবা তার আগের দিনই গিয়ে দেখা করে এসেছিলেন ছেলের সঙ্গে। তারপর আজমগঞ্জের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথে ছেলের মৃত্যু সংবাদ পান তিনি। তারপর ৭ দিনও কাটেনি, স্বাধীনতা দিবসের রাতে ফের এক জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।
কোটার হস্টেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নবীন মিত্তল এদিন বলেন, পর পর আত্মহত্যার ঘটনায় আমরাও চিন্তিত। তার পর বেঙ্গালুরুর একটা কোম্পানি এসে প্রস্তাব দেয় যে তারা সিলিং ফ্যানের নতুন ডিভাইস তৈরি করেছে। ওই ডিভাইস এখন ৯৯ শতাংশ হস্টেলে লাগানো হয়ে গেছে বা কাজ চলছে।
তবে নবীনের উদ্বেগ হল, এর পরেও আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকানো যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, মেসবাড়িতে বা বাড়ি ভাড়া করে আরও চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার ছাত্র থাকে। এ ধরনের মেসবাড়ি অসংগঠিত ভাবে চলে। তাদের কোনও অ্যাসোসিয়েশন নেই। ফলে তারা সিলিং ফ্যানে এই নতুন ডিভাইস লাগাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। সেই কারণে বিষয়টা প্রশাসন ও পুলিশেরও নজরে আনা হচ্ছে।