
শেষ আপডেট: 1 March 2024 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ন'দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে শুক্রবার শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হয় কোন্নগরে শিশু খুনে অভিযুক্ত মা ও তার বান্ধবীকে। শিশুর মা শান্তা শর্মা দাবি করেন, তিনি কিছুই জানেন না। তবে কি বান্ধবীই তার সন্তানকে খুন করেছে? সে প্রশ্নেও নীরব ছিলেন তিনি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানা লকআপে বান্ধবী ইরফাত পারভিনকে সপাটে চর মারেন মৃত শিশুর মা শান্তা।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে কোন্নগরের কানাইপুরে দু'কাঠা জমি কিনেছিলেন শান্তা। সেই জমি বিক্রি করে ফ্ল্যাট কিনে দুজনে থাকার পরিকল্পনা ছিল তাদের। স্বামী পঙ্কজের মাথার টাক পছন্দ ছিল না শান্তার। বান্ধবী ইরফাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে বাধা হচ্ছিল সন্তান। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোককে শিক্ষা দিতে সন্তানকে খুনের পরিকল্পনা করে মা, এমনই মনে করছে তদন্তকারীরা। আর বান্ধবী ইফফাতকে দিয়েই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন। তবে শিশু খুনে যে নৃশংসতা দেখা গেছে তাতেই হয়ত প্রিয় বান্ধবীর প্রতি বিরক্ত শান্তা। লকআপে তার আচরণে তেমনই মনে হয়েছে তদন্তকারীদের।
কোন্নগর আদর্শ নগরের পঙ্কজ ও শান্তা শর্মার আট বছরের ছেলেকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সন্ধায় বাড়িতে কেউ ছিল না। টিভি দেখছিল ওই শিশু। মাথায় থান ইট দিয়ে আঘাত করে ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তাকে। ঘটনার চারদিন পর গ্রেফতার হয় শান্তা ও তার বান্ধবী। অভিযুক্তদের আইনজীবী সৈকত মন্ডল বলেন, "যেহেতু ৩০২ ধারায় খুনের মামলা, তাই শ্রীরামপুর আদালত জামিন দেয়নি। আইনজীবীর দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। ফোন আর সিসিটিভি দেখিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে যে অভিযুক্তরাই দোষী।"
সরকার পক্ষের বিশেষ আইনজীবী অরুণ আগরওয়াল বলেন, "তদন্তকারী অফিসার সঠিক তদন্ত করছেন। মামলাটার জন্য প্রচুর খেটে তথ্য প্রমাণ জোগাড় করেছেন। দু-বছর আগের কল রেকর্ড, একটা রক্তমাখা রুমাল পেয়েছেন। আরও অনেক কিছু সিজ করেছেন। সঠিক দিশায় তদন্ত এগোচ্ছে।"সরকারি আইনজীবী সুদীপ সরকার বলেন, "অভিযুক্তরা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন একটি রক্তমাখা রুমাল পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলের কাছে। ইফফাত পারভিনের দেখানো জায়গা থেকে। এছাড়া বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিআইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছিল আদালতে অভিযুক্তদের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে তা মিলিয়ে দেখা হবে। সিসিটিভিতে ইরফাত পারভিনকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। সেটাও দেখা হবে। ওই দিন কোন্নগরে এসেছিলেন ইরফাত। তদন্ত এখনও চলছে।"