
শেষ আপডেট: 4 January 2024 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্ল্যাট থেকে পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল বুধবারই। একই সঙ্গে বাবা-মা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলেছিলেন বুরারি কাণ্ডের ছায়া গড়িয়ায়। তারপর তদন্ত করে উঠে এল নির্মম সত্য। পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক অবসাদে ভুগছিল ছেলে। বয়স্ক বাবা-মাকে খুন করে সে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছে।
বুধবার গড়িয়া স্টেশন চত্বরের উত্তর বালিয়ার ফ্ল্যাট থেকে একসঙ্গে তিনটি দেহ উদ্ধার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। মৃতদের নাম স্বপন মৈত্র (৭৫), অপর্ণা মৈত্র (৬৯) ও সুমনরাজ মৈত্র (৩৯)। কীভাবে মৃত্যু হল তা তদন্ত করে দেখতে গিয়ে সুমনরাজের ফেসবুক ভিডিও দেখে পুলিশ। ঘটনার দিন পাঁচেক আগে ফেসবুকে ২০ থেকে ২২ মিনিটের লাইভ করেছিলেন সুমনরাজ। সেখানে তিনি বলছিলেন, “আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই। মনে হচ্ছে নিজেকে শেষ করে দিই। বাবা-মাকেও শেষ করে দিই।” সেই ফেসবুক লাইভের পাঁচদিনের মাথায় বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ওই যুবক ও তাঁর বাবা-মায়ের পচাগলা দেহ।
পুলিশের অনুমান, চরম মানসিক অবসাদ থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন সুমনরাজ। কিছুদিন আগে কলকাতা বিমানবন্দর লাগোয়া নারায়ণপুরে প্রায় একইরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। ঋণের দায়ে মেয়ে এবং স্ত্রীর গলা কেটে আত্মঘাতী হন এক ওষুধ ব্যবসায়ী। এবার গড়িয়াতেও ঠিক তেমনই ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেশীরা বলছেন, সুমনরাজের বাবা স্বপনবাবু একটি বেসরকারি সংস্থায় সেরামিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। অবসর নেওয়ার পর পরিবার-সহ গড়িয়ার সাহাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে উঠেছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা চলে আসেন সুমনরাজের মামা দেবাশিস ঘোষের উত্তর বালিয়ার এই ফ্ল্যাটে। বছর দেড়েক আগে বাইপাস সার্জারিও হয় স্বপনবাবুর। তারপর থেকে তিনি বাড়িতেই থাকতেন। শরীরও ভাল ছিল না। ছেলে সুমনরাজ কোনও কাজকর্ম করতেন না। পরিবারের আর্থিক অনটন ছিল।
স্বপনবাবুদের আত্মীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমনরাজ মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি এর আগে ইউটিউবে কাজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা হয়নি। চাকরিও পাচ্ছিলেন না কোথাও। এর আগে একাধিক ফেসবুক লাইভে তিনি তাঁর মানসিক অবসাদের কথা বলেছিলেন। এমনকী কেউ বা কারা তাঁদের খুন করতে চাইছে এমন কথাও বলেছিলেন। এলাকার লোকজন বলছেন, গত শনিবার তাঁদের শেষবার দেখা গিয়েছিল। তারপর ওই ফ্ল্যাট থেকে পচা গন্ধ পেয়ে পুলিশে ফোন করেন এলাকার লোকজন। পুলিশ এসে তালা ভেঙে দেখে, ডাইনিং হলের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে ছেলের দেহ। পরে দু’টি বেডরুম থেকে স্বামী ও স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।