
শেষ আপডেট: 5 December 2023 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্থায়ী উপাচার্য নিয়ে জটিলতা কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবারই রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘণ্টা খানেকের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “বৈঠক ভাল হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
এমন আবহে রাজ্যের জটিলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য় শান্তা দত্ত। অস্থায়ী উপাচার্যর অভিযোগ, পরীক্ষা বিধি পরিবর্তনের জন্য তিনি যতবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠক ডাকছেন ততবারই তা বাতিল করে দিচ্ছে রাজ্য। ফলে ১৬৯টি কলেজের পরীক্ষা ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদৌ সময়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন শান্তাদেবী।
চলতি বছর থেকে গোটা দেশে চালু হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি। নয়া নিয়মেই এবারে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হওয়ার কথা। এব্যাপারে কলেজগুলি থেকে নয়া নিয়ম জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সদুত্তর দিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শান্তাদেবী বলেন, “নতুন নিয়মে পরীক্ষা করতে হলে নয়া বিধি চালু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি থেকে অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। এজন্য অন্তত ৬ বার রাজ্যকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু প্রতিবারই অনুমতি বাতিল করে দেওয়ায় পরীক্ষা বিধি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে ১৬৯ টি কলেজের পরীক্ষা পদ্ধতি ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানি না, আদৌ সময়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কি না।”
অন্যদিকে এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।”
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষামহলে। কবে থেকে পরীক্ষা চালু হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ১৬৯টি কলেজের পড়ুয়ারাও। পরীক্ষা দেরি করে হলে ফল প্রকাশ এবং পরের ক্লাসে ভর্তি, পুরো প্রক্রিয়াটাই পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শান্তাদেবী বলেন, “আগামী এক’দুমাসের মধ্যে পরীক্ষা করানোর কথা। কিন্তু পরীক্ষা বিধি নির্ধারিত না হলে কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে।” যদিও সূত্রের দাবি, উপাচার্য নিয়োগের জট কাটাতে ১২ ডিসেম্বর সবপক্ষকে শুনানিতে ডেকেছে শীর্ষ আদালত। ওই দিনই এ ব্যাপারে কোনও সমাধান সূত্র সামনে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতাও দূর হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।