গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের এক ঘরে তিনজনেই মদ্যপান করছিলেন। সেই সময় টাকা নিয়ে বিতর্ক হয় এবং তা থেকে উত্তেজনা ছড়ায়। ঝগড়া হাতাহাতিতে গড়ায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 November 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার হোটেলে (Kasba Hotel Murder) আদর্শ লোসাল্কার খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য বাড়ছে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দুবরাজপুরের বাসিন্দা ওই যুবকের মৃত্যুর পর ধৃত ধ্রুব মিত্র এবং কমল সাহা একাধিক জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে নিজেরাই থানা চত্বরে হাজির হয়েছিলেন (Surrender) বলে অনুমান করা হচ্ছে। ধৃতদের জেরা করে আরও কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলে ইতিমধ্যে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তে আপাতত জানা গেছে, শুক্রবার রাতেই কসবার ওই হোটেলে (Kasba Hotel) ওঠেন আদর্শ, ধ্রুব ও কমল। ধ্রুবকে আগেই চিনতেন আদর্শ, কিন্তু কমলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। দু’টি আলাদা ঘর বুক করা হয়। রাত বাড়তেই ধ্রুব ও কমল হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। পরের দিন সকালে এক কর্মী ঘর খুলে আদর্শের দেহ দেখতে পান। সেটি নগ্ন অবস্থায় (Naked) মেঝেতে পড়েছিল এবং পা বাঁধা। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে তাঁকে। শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতিও মিলেছে।
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের এক ঘরে তিনজনেই মদ্যপান (Drunk) করছিলেন। সেই সময় টাকা নিয়ে বিতর্ক হয় এবং তা থেকে উত্তেজনা ছড়ায়। ঝগড়া হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে আদর্শকে বেঁধে ফেলা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর রাতেই হোটেল ছেড়ে চম্পট দেন ধৃত দুই যুবক-যুবতী।
পুলিশের দাবি, হোটেল ছাড়ার পর প্রথমে তাঁরা যান নদিয়ার কৃষ্ণনগর (Nadia Krishanagar)। তারপর সেখান থেকে কল্যাণী (Kalyani) হয়ে উঠে আসেন দমদমে (Dumdum)। এর মধ্যেও অন্য কোথাও তাঁদের যাতায়াত ছিল কি না - তা নিশ্চিত নয়।
ধ্রুবের বাড়ি নদিয়ায়। কমল ব্যারাকপুরের বাসিন্দা। তবে তাঁরা দু’জনই দমদমে একই ঠিকানায় থাকতেন। খুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার ভয় পেয়ে এক পরিচিতের পরামর্শ নেন তাঁরা বলে দাবি পুলিশের। শেষে রবিবার কসবা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
আদর্শের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, কাজের সূত্রে কলকাতায় থাকতেন তিনি। ঠিক কী নিয়ে বিবাদ, শুধুই অর্থিক বিরোধ নাকি আরও কোনও অজানা কারণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশের লক্ষ্য - হোটেলের ঘরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা বিস্তারিত জানা।
এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে তা হল - ধৃত মহিলার সঙ্গে ৩৩ বছরের আদর্শের পরিচয় হয়েছিল একটি ডেটিং অ্যাপে (kasba murder dating app angle) এবং শুক্রবারই তাঁদের প্রথম দেখা।
সূত্রের খবর, সম্ভবত দেখা হওয়ার পর হোটেলে রাতে থাকার প্ল্যানিং হয়েছিল তাঁদের। কথাবার্তার সময় কোনও এক কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জেরায় কমলের দাবি, ধস্তাধস্তির মধ্যে আদর্শ মেঝেতে পড়ে যান। এরপর তিনি ও ধ্রুব মিলে তাঁর পা একটি তোয়ালে দিয়ে বেঁধে দ্রুত হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং দুই অভিযুক্তের বয়ান মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।