বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণী পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন দুপুর থেকে সব স্বাভাবিক ছিল। ইউনিয়ন রুমে আড্ডা মারছিলেন অনেকে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 June 2025 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজের (Kasba Law College) গণধর্ষণের ঘটনায় আবার ফিরে এসেছে আরজি কর কাণ্ডের স্মৃতি (RG Kar Case)। শুক্রবার এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়। কলেজের মধ্যেই এক পড়ুয়াকে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ (Woman Assault)। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তৃণমূল যুবনেতা (TMC) বলে জানা গেছে। অভিযোগকারিণী অবশ্য তাঁর অভিযোগপত্রে কারও সরাসরি নাম নেননি। নামের আদ্যক্ষর ব্যবহার করেছেন।
ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পুলিশকে দিয়েছেন নির্যাতিতা। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, তরুণী পুলিশের কাছে যে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তাতে লিখেছেন, গত বুধবার (২৫ জুন) তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক মিটিং শেষে তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জে’, ‘এম’ ও ‘পি’ (J, M & P) নামের তিন যুবক। তাঁর অভিযোগ, এদের মধ্যে ‘এম’ ও ‘পি’ তাঁকে একটি ঘরে বন্ধ করে রেখে চলে যান এবং ‘জে’ তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণী পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন দুপুর থেকে সব স্বাভাবিক ছিল। ইউনিয়ন রুমে আড্ডা মারছিলেন অনেকে। তবে বিকেলে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে ‘জে’ তাঁকে কিছুক্ষণ থেকে যেতে বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন, দলের কাজ সংক্রান্ত কিছু মিটিং হবে। বিকেলে ইউনিয়ন রুমে গেলে ‘জে’ নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এরপরই আচমকা তাঁকে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে দাবি!
তরুণীর কথায়, ‘জে’ বলেছিলেন কলেজে প্রথম যে দিন তাঁকে দেখেছেন, সে দিন থেকেই পছন্দ করেন। তবে সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জানিয়েছিলেন তাঁর বয়ফ্রেন্ড আছে, তিনি তাঁকে ছাড়তে পারবেন না। এরপরও সব ঠিক ছিল। কিন্তু সন্ধেবেলা বাড়ি যাওয়ার সময়ে ‘জে’ তাঁকে ফের আটকান এবং ইউনিয়ন রুমে আসতে বলেন। সেই সময়ই ‘পি’ এবং ‘এম’ ইউনিয়ন রুমের বাইরে বেরিয়ে যান এবং দরজা বন্ধ করে দেন। তখনই তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা শুরু করে ‘জে’।
অভিযোগপত্রে তরুণী আরও উল্লেখ করেছেন, “আমি ওকে (জে) অনেকবার বলেছিলাম ছেড়ে দিতে, কেঁদেছি, ওর পা ছুঁয়ে অনুরোধ করেছি। কিন্তু ও ছাড়েনি। আমি এও বলেছিলাম যে আমার প্রেমিক আছে, আমি ওকে ভালোবাসি। কিন্তু তাও আমাকে ধর্ষণ করে ও।” তরুণী এও জানান, ওই সময় তাঁর প্রবল প্যানিক অ্যাটাক হয় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। সেই সময়ে ‘জে’ ‘এম’ ও ‘পি’-কে ঘরে ডাকে। তিনি তাঁদের ইনহেলার আনতে অনুরোধ করলে ‘এম’ সেটা এনে দেয়। ইনহেলার নেওয়ার পরে তিনি খানিকটা স্বাভাবিক হন।
তরুণী এরপরই পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে গার্ডরুমে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ''কলেজের মেন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষী সব দেখেও কিছু করেনি। আমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় গার্ডরুমে। সেখানেই ‘জে’ আমাকে বিবস্ত্র করে এবং ধর্ষণ করে। আমি বাধা দিলে ও হুমকি দেয়, যদি কারও কাছে কিছু বলি, তবে আমার প্রেমিক ও পরিবারের লোকেদের মেরে ফেলবে।'' শুধু তাই নয়, বাধা দিলে তাঁকে হকিস্টিক দিয়ে মারতেও উদ্যত হয় ‘জে’ বলে জানিয়েছেন তরুণী।
এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে বলে দাবি করেছে শাসক দল। শুক্রবারই ধৃতদের আলিপুরে আদালতে তোলা হলে তাদের ১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন আদালতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারক।