
শেষ আপডেট: 29 March 2024 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রখর তপ্ত গ্রীষ্মের দহনজ্বালা বোঝাতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন. ‘হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ! ধুলায় ধূসর রুক্ষ উড্ডীন পিঙ্গল জটাজাল,’।
গ্রীষ্মের রুদ্ররূপই বটে। সূর্যের অগ্নিবাণে যেন ছারখার হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। বৈশাখ এখনও আসেনি। সবে মাঝ চৈত্র। আর এখনই গরম নিয়ে পিলে চমকে দেওয়ার মতো আপডেট দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। গ্রীষ্ম বর্ণনায় কবি দারুণ দহন বেলার রসহীনতার ছবি এঁকেছিলেন, চৈত্রের তপ্ত দুপুরটা তেমনই রসকসহীন, রুক্ষ, ঝলসানো হয়ে উঠছে। অ্যাকুওয়েদারের রিপোর্ট বলছে, বেলা ২টোয় মাথার উপর গনগনে সূর্য। কলকাতায় তখন পারদ ৩৫ ডিগ্রিতে, বেলা ৩টে বাজতে না বাজতেই এক লাফে ৩৭ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলছে। বিকেল ৪টে তে খানিক কমে ৩৬ ডিগ্রিতে এলেও সেই রাত অবধি পারদ কাঁটার ৩০ ডিগ্রির নীচে নামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ২৯ ডিগ্রির ঘরে। কাজেই ভ্যাপসা গরমে এখন থেকেই হাঁসফাঁস করছে মহানগর।
পূর্বাভাস বলছে, আগামী সোমবার অবধি আবহাওয়ার পরিস্থিতি এমনই থাকবে। রাজ্যের কয়েকটি জেলায় কয়েক পশলা ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা কমবে না। বরং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পয়লা বৈশাখের আগেই ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়াবিদদের। পশ্চিমের জেলাগুলিতে গরম আরও বাড়বে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণ জলস্রোত এল নিনো নাকি ফিরে যাচ্ছে। লা নিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রব। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তেমন যদি হয় তাহলে বর্ষার মরশুম ওলটপালট হয়ে যাবে। গ্রীষ্ম ও বর্ষার সমীকরণটাই আমূল বদলে যাবে। মৌসম ভবন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের ঝাপটা সইতে হবে কর্নাটক, গুজরাট, রাজস্থানকে। তাপমাত্রা সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যাবে। পারদ উঠবে ৪০ ডিগ্রি ছাপিয়ে। বাংলাতেও এর প্রভাব পড়বে বলেই অনুমান আবহাওয়াবিদদের।
মাটি তপ্ত। এখন আর বৃষ্টি ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ পাওয়া যায় না। বৃষ্টির পরেই মাটি ভেদ করে ভ্যাপসা গরম ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশে। কারণ গরম হাওয়া বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। উঁচু উঁচু ইমারত আর প্রায় গাছপালাহীন পরিবেশে ঠোক্কর খেয়ে গরম ফিরে আসছে আবার পরিবেশেই। তাই বৃষ্টির পরেও যে শীতল বাতাসের স্বস্তি অনুভব করছে না এ শহর।
হাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে, শনিবার কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে। কিন্তু তাতে গরম কমার খুব একটা আশা নেই। বরং আগামী তিনদিন তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে।