
শেষ আপডেট: 6 December 2021 13:17
ফাইল চিত্র[/caption]
বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের গভর্মেন্ট কলোনি, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হলেই চলে যায় জলের তলায়। কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যেও তাড়া করছে তাই স্মৃতি। এবছর বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ায়, বছরের অনেকটা সময়ই কলোনির বাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মীয়র বাড়িতে থেকেছেন গৃহবধূ বিজারি হালদার। 'ঘরে মধ্যে জল ঢুকে যায়, তখন ইট দিয়ে খাট উঁচু করেও লাভ হয় না। বাথরুমের জল ঢুকে পড়ে ঘরের মধ্যে, তখন এখান থেকেই অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়', উদাস কণ্ঠে জানালেন তিনি।
এলাকায় ৫০ বছরের লন্ড্রির দোকান চালান জগদীশ রামরাজা। জল যন্ত্রণার কথা জিজ্ঞেস করায় বছর ৭০-এর জগদীশবাবু চোখে ভেসে উঠল আতঙ্কের ছবি। জানালেন, 'যখন জল জমে এখানে যত একতলা বাড়ি আছে সব ডুবে যায়। দোকানও খুলতে পারি না। ঘরের মধ্যে বিছানার ওপরই বসে থাকি।'
[caption id="attachment_2408334" align="aligncenter" width="604"]
ফাইল চিত্র[/caption]
এমন চিত্র বেহালার বিস্তৃর্ণ এলাকাতেই। পর্ণশ্রী পল্লী, সেন পল্লী, রবীন্দ্র নগর, খাল পাড়, বিজি প্রেস, গভর্মেন্ট কলোনি, বিবেকানন্দ পল্লী, জাগরণী সহ একাধিক এলাকা। এলাকাবাসীদের কথায়, জল জমার সময় এক প্রকার গৃহবন্দিই হয়ে পড়তে হয় তাঁদের।
বেহালার এই সমস্যা তো অনেকদিনের। আজও সেই সুরাহার পথ খুঁজছে এলাকাবাসী। বেহালার জল জমলে সেই জল বের করা হয় মূলত চড়িয়াল খালের মাধ্যমে। কিন্তু সেই খালের অবস্থাও বেহাল। সংস্কারের কাজ চলছে। তবে গত কয়েকদিন আগের বৃষ্টিতে খালের দুর্দশার চিত্র সকলেরই জানা। কচুরি পানায় ভরা খাল দিয়ে অতিরিক্ত জল প্রবাহের অবস্থা নেই, তাই যা হবার তাই হয়।
সামনেই পুরসভা নির্বাচন। তার আগেও এই সমস্যাই ভাবাচ্ছে বেশি এলাকাবাসীকে। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের বোতাম চাপার আগেও এই কথাটাই মাথায় থাকবে, হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন এলাকার মানুষ।
[caption id="attachment_2408335" align="aligncenter" width="610"]
ফাইল চিত্র[/caption]
তবে জল নিকাশি ব্যবস্থার এমন অবনতির চিত্র কেন পাল্টাচ্ছে না? শুধু যে খালের বেহাল দশা নয়, রাস্তার ধারের নর্দমাতেও জমে আবর্জনা। যার মধ্যে দিয়ে জল যাওয়ার পরিস্থিতি থাকে না, সেটাও বুঝিয়ে দিলেন এলাকাবাসী। আর সেটার পুরো দায়িত্বই কী পুরসভার? এলাকারই এক চায়ের দোকানে বসে বছর ৩০-এর প্রতাপ নস্কর জানালেন, 'মানুষকেও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস এখনও পাল্টায় না মানুষের।'
যদিও এই জল যন্ত্রণার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেন পুরসভার বিদায়ী মেয়র পারিষদ (জল নিকাশি) তারক সিং। তিনি বলেন, 'বেহালা যাদবপুরে যে জল জমেছিল কয়েকদিন আগে, সেইসব জায়গা সরেজমিন করে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জল আর জমবে না। খালগুলোর সংস্কার করা হবে। নতুন নতুন পাম্পিং স্টেশন তৈরি হচ্ছে। কিছু চালুও হয়ে গেছে ।'