
আরজি কর হাসপাতাল - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2024 10:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে বিশেষ অ্যানালিটিক্যাল রিপোর্ট জমা দিয়েছে দিল্লির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। সেই রিপোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এদিকে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবের রিপোর্টকে হাতিয়ার করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানতে চান, নিহত চিকিৎসকের ডিএনএ নমুনায় ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল কিনা।
সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাব তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, আরজি করের নির্যাতিতার ডিএনএ-র যে নমুনা পাঠানো হয়েছিল তা যথাযথ ছিল না! বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নমুনা সংগ্রহের সময় কোনও ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে বা, তার সঙ্গে অন্য কিছু মিশে নমুনা দূষিত হতে পারে। এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে প্রতিবাদী ডাক্তারদের একাংশের দাবি, হয়তো ইচ্ছা করেই তাতে কোনও কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে প্রমাণ লোপাট করা যায়।
জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স বলছে, ঘটনায় আসল দোষী কে বা কারা তা যাতে না বোঝা যায়, সেই কারণেই এমন ঘটানো হতে পারে। ডিএনএ নমুনায় কিছু নিশ্চয়ই মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তা নির্যাতিতা নাকি অন্য কারও তা বোঝা না যায়। ইতিমধ্যে এই রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে সিবিআই।
অন্যদিকে বিশেষ অ্যানালিটিক্যাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, নির্যাতিতার দেহের আঘাত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, এই ঘটনাটি এক জনের পক্ষে ঘটানো অসম্ভব নয়। এছাড়া, নির্যাতিতার শরীরে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের লালার নমুনার সঙ্গে মিলে গিয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিবিআই তদন্তে মেডিক্যাল বোর্ডের যে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে নির্যাতিতার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণটি হল শ্বাসরোধ করে খুন। পাশাপাশি, নির্যাতিতার হাইমেন যেভাবে জখম হয়েছে, তাতে তিনি নিশ্চিতভাবেই ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। অন্যদিকে সঞ্জয় রায়ের শরীরে অন্তত পাঁচটি ভোঁতা আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যা দেখে মনে করা হচ্ছে নির্যাতিতা তাকে আঘাত করেছিলেন সর্বশক্তি দিয়ে।
দিল্লি এইমসের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের 'মাল্টি ইনস্টিটিউশনাল মেডিক্যাল বোর্ড' (এমআইএমবি) নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সুরতহাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি বিশ্লেষণ করেছে এবং তাদের রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে।