
কলকাতার ট্রাম উঠে যাওয়ার পথে
শেষ আপডেট: 5 August 2024 17:14
প্রীতি সাহা
কলকাতার মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে যেতে পারে ট্রাম লাইন। ট্রাম পরিষেবার পরিবর্তে তিলোত্তমা পেতে চলছে জয় রাইড।
কলকাতা মানেই ট্যাক্সি, টানা রিক্সা আর ট্রাম। তবে সেই ট্রাম পরিষেবারই এখন মৃত্যু ঘটতে চলেছে। ইতিমধ্যেই বহু রাস্তা থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে ট্রাম লাইন। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ট্রাম চালানো নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। কলকাতা পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, ট্রাম চললে ট্রাফিকের সমস্যা হচ্ছে। ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির চলাচল শ্লো হয়ে যাচ্ছে। এমনকী ট্রাম লাইনের পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন পাল্টা অভিযোগ করছে, রাজ্য সরকার, পরিবহণ দফতর এবং কলকাতা পুলিশ এক জোট হয়ে ট্রাম বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আপাতত ৩ রুটে ট্রাম পরিষেবা চালু রয়েছে। চিরতরে বন্ধ হয়েছে ২৫ টি রুট। কলকাতার বুকে সারাদিনে মাত্র ৩৫ টি ট্রাম চলে। পরিবহন দফতরের মত, কলকাতা শহরে পুরোপুরি ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হোক। পরিবর্তে ধর্মতলা থেকে রেস কোর্স পর্যন্ত চালু করা হবে জয় রাইড। শহরে যারা ঘুরতে আসেন তারা ট্রাম উপভোগ করতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঐতিহ্যের ট্রাম যদি সত্যিই বন্ধ হয়ে যায় তবে শহর কলকাতার কী লাভ হবে!
'রাস্তা চলেচে যত অজগর সাপ, পিঠে তার ট্রামগাড়ি পড়ে ধুপ ধাপ'... রবীন্দ্রনাথের লেখা 'স্বপ্ন' কবিতার 'কলিকাতা চলিয়াছে নড়িতে নড়িতে'-র মতোই ট্রাম দেখলেই মানুষের সেই কথাটাই প্রথম চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু, গড়ের মাঠের ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশনের মতোই ট্রাম এই তিলোত্তমার প্রাণ ছিল একসময়। কিন্তু, আজকের যুগে এরকম সংকীর্ণ ও ঘন জনবসতিপূর্ণ শহরের পরিবহণ-ধমনীর গতিপথ তছনছ করে দেয় ট্রাম। তাই যান-অবরুদ্ধ এই শহরের অধিকাংশ নিত্যযাত্রীই মনে করেন, কলকাতার মতো শহরে ট্রামের নাম থাকুক ইতিহাসের পাতাতেই।