অভিরূপের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে প্রবল নিন্দা। বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে বহু এগিয়ে থাকা উপাচার্যকে এভাবে অপমান করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শান্তা দত্ত দে
শেষ আপডেট: 27 August 2025 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৮ অগস্টের পরীক্ষা পিছোনো হবে না - এ কথা আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত দে (Santa Dutta Dey)। সেই সিদ্ধান্তের জেরেই এবার যুব তৃণমূলের নিশানায় পড়লেন তিনি। শাসক দলের যুব নেতা অভিরূপ চক্রবর্তী (Avirup Chakraborty) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন শান্তা দত্ত দে-কে। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে বিজেপি।
২৮ অগস্ট কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের BA, BSc, B.Com ও B.A. LLB-র চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষা পিছনোর আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) অন্তর্বর্তী উপাচার্য (Acting Vice Chancellor) শান্তা দত্ত দে (Santa Dutta Dey) স্পষ্ট করে দেন, কোনও মতেই পরীক্ষা পিছবে না। আর এরপরই তাঁকে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে।
বিজেপি যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে শান্তা দত্তকে হুঁশিয়ারি দিয়ে TMCP-র সাধারণ সম্পাদক বলছেন, উপাচার্যকে তিনি ‘ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে’ বুঝে নেবেন। যাঁরা তাঁকে সমর্থন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানান তিনি।
বিজেপি (BJP) এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছে। সেই ভিডিও-তে অভিরূপকে বলতে শোনা যায়, “২৮ অগস্ট পরীক্ষা রেখেছেন। এত বড় বেহায়া আমি দেখিনি। উনি বলছেন, তাঁর যোগ্যতা নিয়ে কেউ ঘেউ-ঘেউ করছে। আমরা যদি ঘেউ-ঘেউ করি, আপনিও রাজ্যপালের কাছে বারবার মিউ-মিউ করেছেন। ২৮ অগস্টের পর ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে বুঝে নেব।” এখানে না থেমে তিনি আরও বলেন, যাঁরা ভিসির দালালি করেছেন, তাঁদের গণতান্ত্রিকভাবে থাপ্পর মারা হবে যাতে তারা আর উঠে দাঁড়াতেই না পারে।”
See the true face of TMC’s student wing.
Calcutta University’s acting Vice-Chancellor, Shanta Dutta, scheduled an exam on the 28th against TMC’s wishes, and for that, TMC’s “students” are calling a woman “shameless” right in front of the university. They are even making… pic.twitter.com/AjdJqFteO8— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) August 26, 2025
অভিরূপের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে প্রবল নিন্দা। বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে বহু এগিয়ে থাকা উপাচার্যকে এভাবে অপমান করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবুও অভিরূপ নিজের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন। বরং তাঁর দাবি, শান্তা দত্ত দে-কে উপাচার্য বলা যায় না। কারণ তিনি বেআইনিভাবে পদে বসে রয়েছেন। ওঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য তাঁর।
গত সোমবার একাধিক কলেজের অধ্যক্ষ চিঠি পাঠান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাছে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, বঙ্গবাসী কলেজ-সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছাত্রছাত্রী, নন-টিচিং স্টাফ, এমনকী কিছু সংগঠনও নাকি পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজি নন। তাঁদের বক্তব্য, ২৮ অগস্ট পরীক্ষার দিন নির্ধারণ হলে শিক্ষার্থীদের একাংশ সমস্যায় পড়বেন।
কিন্তু সেই আর্জিকে কার্যত গুরুত্বই দেননি শান্তা দত্ত দে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “পরীক্ষা কি কোনও পিকনিক নাকি? বিশ্ববিদ্যালয় তার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষার দিন ঘোষণা করে। পরীক্ষায় বসা পড়ুয়ার দায়িত্ব, অধ্যক্ষ যদি চিঠি ফরওয়ার্ড করে দেন, তবে শিক্ষায় ডিসিপ্লিন বলে কিছু থাকবে না।” মুখ্যমন্ত্রী পরীক্ষা পিছনোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে জানান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। কিন্তু তিনি সেই আর্জিও মানেননি।