অভিযোগ, বৈঠকের দিন কলেজের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি বৈঠকে উপস্থিত থেকে দুই অধ্যাপকের সঙ্গে অশোভন ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 August 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের (Maldah) হবিবপুর, নদিয়ার পলাশিপাড়ার পর এবার বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়। ফের শিক্ষাঙ্গনে (Educational Institute) রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে। কলেজ পরিচালন সমিতির বৈঠকে প্রকাশ্যে দুই অধ্যাপককে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতির (TMC Block President) বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, দুই অধ্যাপককে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।
মূল ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৬ মার্চ। তবে সম্প্রতি বৈঠকের একটি ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন অধ্যাপক মহল। আক্রান্ত দুই অধ্যাপক গত ৩ এপ্রিল ই-মেল মারফত বেলিয়াতোড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, থানায় সরাসরি অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে পুলিশ নিতে চায়নি। পরে পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানানোর পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।
অভিযোগ, বৈঠকের দিন কলেজের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি বৈঠকে উপস্থিত থেকে দুই অধ্যাপকের সঙ্গে অশোভন ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন। এমনকী তাঁদের পেশাগত কাজে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। ভিডিওতে গোটা ঘটনাটাই ধরা পড়েছে ফলত অস্বস্তি বেড়েছে শাসক শিবিরে।
মাত্র কদিন আগে মালদহেরই একটি স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজ ধরা পড়ে সেই ঘটনা। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা সুবোধ রায় এই ঘটনায় অভিযুক্ত।
শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, বারবার শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক নেতাদের এভাবে প্রবেশ ও দাদাগিরি করার ঘটনা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা পরিবেশের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আর শিক্ষকরা কাজের স্বাধীনতা হারাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক এই সমস্ত ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিরুদ্ধে কলেজে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শিক্ষকমহল দাবি তুলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বন্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে কী উঠে আসে।