একদিকে তৃণমূলের স্লোগান শাউটিং, অন্যদিকে বাহিনীর কড়া পাহারা— সব মিলিয়ে ভোটের মুখে নতুন হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটকের আবহ শুরু হয়েছে।

সিইও অফিসের সামনে ভিড় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের
শেষ আপডেট: 30 March 2026 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের শুরুতেই তপ্ত ধর্মতলার শিপিং কর্পোরেশন চত্বর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে আসছেন— এই খবর চাউর হতেই সোমবার দুপুর থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিইও অফিসের সামনে কার্যত দুর্গের মতো ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একদিকে তৃণমূলের স্লোগান শাউটিং, অন্যদিকে বাহিনীর কড়া পাহারা— সব মিলিয়ে ভোটের মুখে নতুন হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটকের আবহ শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই শিপিং কর্পোরেশনের সামনে পৌঁছে গিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শান্তনু সেনের মতো প্রথম সারির তৃণমূল নেতারা। দলীয় সূত্রের খবর, শুরুতে তিনজনের একটি প্রতিনিধি দল সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে ভিতরে ঢুকবেন। এই দলে থাকার কথা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁদের আলোচনার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দেখা করতে পারেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে।
তবে শুধু বৈঠক নয়, তৃণমূল শিবিরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য সুর। সিইও-র সঙ্গে আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয়, তবে শিপিং কর্পোরেশনের সামনেই ধর্নায় বসতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেখানেই তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বড় কোনও বার্তা দিতে পারেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের ভিড় ও স্লোগানে এলাকা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। SIR-এর খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে ৫৮ লক্ষ নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের তথ্য এখনও খতিয়ে দেখছেন বিচারিক আধিকারিকরা। এখনও পর্যন্ত কমিশন চারটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে, তবে কতজনের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অনেকেই নিজেদের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না, ফলে উদ্বেগ বাড়ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ঠিক কতজনের নাম বাদ পড়েছে এবং কেন বাদ পড়েছে, তা পরিষ্কার নয়। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখেও বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে না, ফলে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।